টাইম ভিশন এক্সক্লুসিভ  : আগামি ২০ অক্টোবর যশোর সদর উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচন কে সামনে রেখে অনেক নবীব প্রবীণ নেতার আবির্ভাব ঘটেছে৷ যাদের মধ্যে কেউ কেউ তৃণমূল থেকে কেউ আবার কেন্দ্রীয় রাজনীতি থেকে বিকশিত নেতা। গতকাল বুধবার ও আজ বৃৃহস্পতিবার তাঁদের অনেকেই চ্যায়ারম্যান পদে আগ্রহ প্রকাশ করে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর আবেদন জমা দিয়েছেন।

তন্মধ্যে তরুণনেতা দেলোয়ার রহমান দিপু কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এ বিষয়ে জানতে টাইম ভিশন২৪ নিউজ ও আগ্রহ প্রকাশ করে৷ দেলোয়ার রহমান দিপু যশোর জেলার সদর উপজেলার সুলতান পুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা ও মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারস্ কর্মকর্তা (অবঃ) নূর -ই- আলম তোতার সন্তান।

২০১৮ সালের ৮ ই মার্চ তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন সাজিয়েছেন শুধু সততা, ত্যাগ আর আদর্শ দিয়ে। প্রায়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আলী রেজা রাজুর হাত ধরে ২০০১ সালে কলেজ জীবন থেকে যশোর জেলা ছাত্রলীগের একজন সক্রীয় কর্মী হিসাবে দিপুর রাজনৈতিক জীবন শুরু।

তারপর ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সাথে সাথেই সেখানেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তৎকালীন সরকারের বিরোধী দলীয় ছাত্র সংগঠনের কর্মী হওয়ার কারনে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় বারংবার । দীর্ঘ দিন ধরে ক্যাম্পাস ও রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় তাকে ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অর্থ সম্পাদক মনোনীত করা হয়।

ওয়ান এলিভেনের (১/১১) সময় নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সেনা বাহিনীর গাড়ি পোড়ানো মামলাসহ একাধিক মামলায় চার্জশিটের আসামী করা হয়। এ সময় কারাবরণও করেন তিনি রাজনীতির ক্রান্তিকালে শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখার কারণে তাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৭তম সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পাঠাগার সম্পাদক মনোনীত করা হয় এবং পরবর্তী সম্মেলনে প্রভাবশালী সভাপতি প্রার্থী হয়েও বয়সের কারণে তিনি বাদ পড়েন। “নিরাপদ সড়ক চাই”আন্দোলনে কোমলমতি শীক্ষার্থীদের ঘরে ফেরানো ও আন্দোলন কে উস্কানিমুক্ত রাখতে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকাও পালন করেন তিনি।

দেলোয়ার রহমান দিপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এ অনার্স, এমএ(বাংলা) সম্পন্ন করে বর্তমানে বাংলা প্রভাষক হিসেবে ঢাকা সিটি কলেজে কর্মরত রয়েছেন। এবং “১৯৪৭ থেকে সমকাল” বাংলাদেশের কারা সাহিত্যের উপর পিএইচডি গবেষণা করছেন।

একান্ত সাক্ষাৎকারে দিপু যশোর সদর উপজেলা পরিষদ উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার রহমান দিপু বলেন, সুযোগ পেলে উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্য শিক্ষা বেকারত্ব দূরীকরণ, নারীশিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়েই আমি কাজ করবো।

সাবেক এ তুখোড় ছাত্র নেতা জানান, তিনি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে একটি পরিছন্ন আধুনিক এবং নাগরিক সমস্যামুক্ত উপজেলা গড়ে তুলবেন। তিনি ইতিমধ্যে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে কথা বলে মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছেন। তিনি সদর উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তার নির্বাচনী পরিকল্পনা ও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে তার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, আমি ওয়ান এলিভেনে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে কারা নির্যাতিত একজন কর্মী। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্য দেশ রত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার পলিটিক্যাল প্রফাইল দেখে যদি মনে করেন আমি যোগ্য প্রার্থী তাহলে আমি মনোনয়নে শতভাগ আশাবাদি ইনশাআল্লাহ।

দেলোয়ার রহমান দিপুর স্ত্রী ডা.মল্লিকা ইতি রুনী স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজের রুমানা পারভিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সোহাগ নাজমুল কমিটির নির্বাহী সংসদের সাবেক উপ-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক, এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ কিমিটির সাবেক মহিলা বিষয়ক সহ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দেলোয়ার রহমান দিপু আরও বলেন, জাতীর জনক সপ্ন দেখতেন সোনার বাংলা গড়ার এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন । আমিও সোনার বাংলা গড়ার সহযোগি হিসেবে কাজ করতে ও তৃণমূলের মাটি মানুষের সাথে মিশতে চাই। তিনি বলেন, আমি অনেক বেশী বেতনের চাকুরি ফিরিয়ে দিয়ে শিক্ষকতা বেছে নিয়েছি। ছোটবেলা থেকেই পরোপকারী মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠেছি।

মানবতার মা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ । উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে সমস্যা গুলোকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে চাই। উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিস্তারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, অবহেলিত গ্রামগুলোতে রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি , পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং সকল নাগরিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবো। আমার উপজেলার প্রতিটি অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে আমি সবসময় ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত। এ অঞ্চলের জনসাধারণের জন্য বিগত দিনেও কাজ করেছি আগামীতেও টেকসই উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই।

যশোর সদর উপজেলা কে উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব মুক্ত করণ, নারী শিক্ষার হার বাড়ানো মাতৃ মৃত্যুর হার কমানোর জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বাড়ী বাড়ী প্রশিক্ষিত সেবিকা পাঠিয়ে নারী সচেতনতা বৃদ্ধি, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, বাল্যবিবাহ রোধ, সামাজিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং অবকাঠামোর উন্নয়ন সহ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে রয়েছে দিপুর ব্যতীক্রমী রোডম্যাপ।