যশোরের ঝিকরগাছার সালেহা ক্লিনিকের কান্ড : মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পেলো মালিক ও মেডিকেল অফিসার

যশোরের ঝিকরগাছার সালেহা ক্লিনিকের মালিক শরিফুল ইসলাম। টাইম ভিশন

ঝিকরগাছা (যশোর) অফিস : যশোরের ঝিকরগাছার সেই আলোচিত সালেহা ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেসমিন নাহার পাতা ও সালেহা ক্লিনিকের মালিক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাষ্টের মানবাধিকার কর্মী ও এশিয়ান টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম @ শরিফ উদ্দিন এবারও মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পেল।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, যশোরের সিভিল সার্জেন শেখ আবু শাহিন শার্শা উপজেলা থেকে অফিসিয়াল কাজ শেষ করে মঙ্গলবার বিকালে ঝিকরগাছায় প্রবেশ করে পৌর সদরের মোবারকপুরস্থ সালেহা ক্লিনিকের প্রবেশ করেন। ঠিক সেই মুহুত্বে এ্যানেসথেসিয়া ছাড়াই সালেহা ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেসমিন নাহার পাতা ও সালেহা ক্লিনিকের মালিক শরিফুল ইসলামকে এ্যানেসথেসিয়া ছাড়া সিজার অপারেশন করতে দেখে। তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ রশিদুল আলম ও ঝিকরগাছা থানার জরুরী অফিসার এসআই সিরাজুল ইসলাম অবগত করে তাদের উপস্থিতিতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ক্লিনিক মালিককে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয় এবং ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে থানায় বসাবসির একপর্যায়ে সালেহা ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেসমিন নাহার পাতা ও সালেহা ক্লিনিকের মালিক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাষ্টের মানবাধিকার কর্মী ও এশিয়ান টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম @ শরিফ উদ্দিনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সালেহা ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেসমিন নাহার পাতার মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়েছে, আমি ডাঃ জেসমিন নাহার @ পাতা, পিতা মশিয়ার রহমান, স্বামী মোঃ তরিকুল ইসলাম, সাং ফুলবাড়িয়া, থানা-ঝিকরগাছা, জেলা- যশোর। এই মর্মে মুচলেকা প্রদান করতেছি যে, অদ্য ০১/০৯/২০২০ তারিখ হইতে আর কোন দিন অজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া আমি কোন রোগী সিজার বা অপারেশন করিবো না। যদি কোন রোগীর সিজার বা অপারেশন করিয়া থাকি তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। উল্লেখ পূর্বক স্বাক্ষর প্রদান করেছেন।
সালেহা ক্লিনিকের মালিক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাষ্টের মানবাধিকার কর্মী ও এশিয়ান টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম @ শরিফ উদ্দিনের মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়েছে, আমি মোঃ শরীফ উদ্দিন(৩৯), পিতা- মোঃ আমজেদ হোসেন, সাং চন্দ্রপুর, থানা- ঝিকরগাছা, জেলা-যশোর। এই মর্মে মুচলেকা প্রদান করতেছি যে, অদ্য ০১/০৯/২০২০ তারিখে সিভিল সার্জন মহোদয় অভিযান পরিচালনা আমার ক্লিনিক সিলগালা করিয়ে দেয়। আমি অদ্য ০১/০৯/২০২০ তারিখ হইতে সিভিল সার্জন অফিসের কোন নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আমার ক্লিনিক খুলিবো না। আমি যদি সিভিল সার্জন মহোদয়ের কথা অমান্য করিয়া আমার ক্লিনিক খুলিয়া থাকি তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা করিবেন। উল্লেখ পূর্বক স্বাক্ষর প্রদান করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান জানান, সালেহা ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেসমিন নাহার পাতা ও সালেহা ক্লিনিকের মালিক শরিফুল ইসলামকে থানার হেফাজতে পাঠানো হয় এবং মঙ্গলবার রাতে সিভিল সার্জন স্যারের নির্দেশ মোতাবেক মুচলেকা গ্রহণ করিয়া তাদেরকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।