বরিশালে শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের উপর হামলা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী‌ আমির হামজা ও তার মা-বড় বোনের উপর এলাকার বখাটের হাতে বর্বর নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছেন। গত ২৩আগস্ট রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা যায়, তাদেরকে বেধরক পেটানোর পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যান সন্ত্রাসীরা।এলাকার কেউ এগিয়ে না আসলে আহত ওই শিক্ষার্থী নিজেই তার মা ও বোনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মা গুরুতর আহত হওয়ায় ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কুলিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান ওই শিক্ষার্থী নিজেই।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, “আমাদের বাড়ি সংলগ্ন পাশের জমিতে একটা অব্যবহ্নত একটি পাকা বাড়ি আছে। সেখানে এলাকার প্রভাবশালী যুবক-কিশোর এসে গাঁজা, ফেনসিডিল সেবন করে। তারা মাতাল হয়ে জোরে ডাকাডাকিসহ বিভিন্নভাবে আমাদেরকে উত্যক্ত ও বাজে মন্তব্য করে। এতে, তাদেরকে কিছু বললে তারা আমার পরিবারকে মারার হুমকি দেয়। কারণ, আমার পরিবারে বাবার আত্মীয় বলতে কেউ নেই।বাবা মানসিক রুগী। তাই তাকে সবাই পাগল বলে। আমাদেরকেও পাগলের ছেলে বলে উপহাস করে। বাবার এমন অবস্থায় বখাটে ছেলেদের আমরা কিছু বললেও লাভ হয় না।”

তিনি আরো জানান, একদিন উপজেলা‌ নির্বাহী অফিসার(ইউ.এন.ও) স্যারকে বললে তিনি ব্যবস্থা নিয়ে এদেরকে কিছুটা দমন করেছিলো। কিন্তু ইউ.এন.ও স্যার বদলি হয়ে যাওয়ার পর ওই বখাটেরা আমার পরিবারকে টার্গেট করে ।

আহত শিক্ষার্থী আরো জানান, আজ সকালে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বখাটেরা আমার মায়ের গায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ফুটবল নিক্ষেপ করে। অথচ আমার মা যেখানে বসা ছিলো সেখানে ফুটবল আসার কথাই ছিলো না। এতে মা তাদেরকে ফুটবল নিয়ে কথা বলা মাত্রই দশ-পনেরজন লাঠি-সোটা নিয়ে মা’কে লাথি মেরে বেধরক পেটাতে থাকে‌। আমার বড় বোন( এম এম কলেজের ছাত্রী) মা’কে বাঁচাতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে পিটিয়ে যখম করে।আমি বুঝতে পেরে ঘুম থেকে উঠে বখাটিদের হাত থেকে মা-বোনকে রক্ষার জন্য ঠেকাতে গেলে আমাকে ও বড় ভাইকে আহত করে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।তবে লিখিত অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিবো।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করেছি। সিনিয়র এএসপির সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে পরবর্তীতে মেসেজও করেছেন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার যদি মনে হয়, কোথাও আইনী সহায়তা পাচ্ছেন না তাহলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এছাড়াও বিষয়টি অবহিত হওয়ার সাথে সাথে কিছু আর্থিক সহায়তা করেছেন বলেও জানান তিনি।

 

সুত্র:সময়েরআলো