সাগরের ঢেউ : আতিয়ার রহমান

সাগরের ঢেউ
আতিয়ার রহমান

নীল আকাশ, নীল দরিয়া ও নীলিমায় নীল,
জ্যোৎস্নাময় নিশিতে গগনে বাঁকা চাঁদ হাসে।
সাগরের মাঝে ডিঙ্গি ভাসে———–

রঙিন বাদামের ডিঙ্গি রূপালী ইলিশের ঝাঁক,
মাঝে মাঝে বাতাসে ভাসে ভাইয়ের ডাক।
রথীন, মাছের খবর দাও———-

দাদা, আজ খুব বেশী মাছ জালে আসছে,
চালিয়ে যাও সকালে হবে,লাল সূর্য হাসে।
সারি বেয়ে নৌকা পাড়ের দিকে————-

পূর্বের সকল আনন্দই যেন আজ পূর্ণ হবে,
রাশি রাশি মাছ জমেছে আড়োতে গৌরবে।
নিতাই, গামছা দিয়ে মুখ মুছতে———-

আড়োতদার, নিতাই, হাসি কেন তোর মুখে!
না,মানে, হ্যাঁ–আজ একটু বেশী মাছ,সুখে।
কতদিন ছেলেমেয়ের আবদার———–

কিস্তি দিতে দিতে আর পারছিনা,মহাজন,
তিন ভাই সারা রাতভর সাগরে অবস্হান।
ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ,হাঙ্গরের ভয়——–

সেদিন সাগরে আসার সময় মেয়ের দাবি,
এবার মেলায় অনেক কিছু কিনব, দিব্যি।
একটু খাসির মাংস—————

চোখের জল ফেলতে ফেলতে সাগরে ধায়,
তিন বারের টাকা পাবো,আড়োতদার,নাই।
মাছের টাকা পাচ্ছিনা,কিভাবে———

এই টাকাগুলি নাও, এগুলি গত খ্যাপের,
আজকেরটা হবেনা, ভাইদের হা-হা-কার।
একি বিধান!———————-

এমনিতেই বছরে কয়েক মাস নিষিদ্ধ জারি,
তার উপর ইলিশের আড়তদারের খবরদারী।
নিরব ভারসাম্যহীনতা—————

ধরিত্রীর লাল চোখের নিষ্ঠুর ব্যবহার আজ,
কেউ পায়না কাপড়, কারো মাথায় তাজ।
সংসারের চাল ডাল কিনে————

দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে আবারও সাগর পানে,
চারিদিকে অন্ধকার ও আকাশে কাল মেঘ।
সাগর ভয়ংকর রুপে—————–

হঠাৎ ঝড়,তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে কুলে,
প্রচন্ড ঝড়, ডিঙ্গি দোদুল্যমান,সব ভুলে।
অস্থির সাগরের তান্ডবে————

জীবন প্রদীপ নিভে গেল, আবার নীল,
নীল আকাশ,নীল দরিয়া,নীলিমায় নীল।
কেউ দেখেনি,কেউ দেখেনা———-

যারা ধরে পায়না,যারা পায় তারা ধরেনা,
জেলেদের এমন জীবন মহা সমুদ্র হায়না।
নেই কেউ শুধু সাগরের ঢেউ———-