সতীঘাটায় বন বিভাগের টেন্ডারকৃত গাছ কর্তনের সাথে অতিরিক্ত গাছ কর্তনকালে জব্দ

নাসির উদ্দিন নয়ন কুয়াদা (যশাের) : যশাের সদরের সতীঘাটায় বন বিভাগের টেন্ডারকৃত গাছ কর্তনের সাথে অতিরিক্ত
গাছ কর্তনকালে নসিমনসহ কাঠ জব্দ করা হয়েছে। রােববার যশাের সদরের রাজারহাট-মনিরামপুর সড়কের
সতীঘাটা বাতানবাড়ি নামকস্থানে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, যশাের সামাজিক বনবিভাগের পত্র নং ২২.০১.৪১০০.৩২৭.১৭.০০১.২০/১২৪৬ স্মারকের আলােকে
সতীঘাটা হতে কুয়াদা পর্যন্ত সামাজিক বনায়ন সমিতির আওতাভূক্ত টেন্ডারকৃত গাছ গত ৩০/০৬/২০২০ইং
তারিখ হতে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে দরপত্রের সকল শর্তসাপেক্ষে উল্লেখিত লটের গাছ কর্তন ও অপসারন
করে নেয়ার উল্লেখ থাকে । কিন্তু শর্তভঙ্গ করে ১৬/০৮/২০২০ তারিখে কোন নিয়মনীতি তােয়াক্কা না করে
মেসার্স ইমরান ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধীকারী কাশিমনগর গ্রামের শামিম হােসেন ও বনায়ন সমিতির সভাপতি
কামালপুর গ্রামের মৃত. মােহাম্মদ উল্লার ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে খােকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে
বিক্রি করে। ট্রেন্ডারকৃত গাছ ছাড়া অন্যান্য গাছের মধ্যে ১) আকাশ মনি ৫ ফুট, ২) চিকরাশি ৬ফুট, ৩)
চিকরাশি ৫ফুট ৪) চিকরাশি ৫ ফুট, ৫) আকাশ মনি ৪ফুট, ৬) আকাশ মনি ৩ফুট ৯ ইঞ্চি, ৭) বাবলা ৩ফুট ৩
ইঞ্চি, ৮) চিকরাশী ৬ ফুট, ৯) আকাশ মনি ৩ফুট ৪ ইঞ্চি, ১০) চিকরাশি ৫ফুট, ১১) চিক রাশি ৬ফুট ১২)
শিশু ৩ফুট, ১৩) আকাশ মনি ৩ফুট, ১৪) আকাশ মনি ৩ফুট ৫ইঞ্চি, ১৫) আকাশ মনি ৩ফুট এই গাছের গুড়ির
বেড় মিজারমেন্ট করেন, বন বিভাগের অফিস সহকারি ফজলুর রহমান। তিনি সরজমিনে দুপুর ৩ টার দিকে
ঘটনাস্থল এসে নসিমনসহ কাঠ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়ে যান। এনিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।
এলাকাবাসী জানান, বনায়ন সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খােকা নিজেই কমিটির অন্যান্য সদস্যদের না
জানিয়ে প্রায়ই রাস্তার গাছ কর্তন করে আত্মসাৎ করে বলে বিস্তর অভিযােগ উঠেছে। সরকারি গাছ অবৈধভাবে
কর্তন হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ ঘটনাস্থলে যেয়ে লেবারদের গাছ কর্তন থেকে বিরত
রাখে। তখন তারা বনায়ন সমিতির সভাপতি খােকার সহযােগিতায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় । পরপরই
সভাপতি খােকা চলন্ত ইজিবাইকে উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ বিষয়ে ঠিকাদার শামীম হােসেন জানান,
আমরা যত গাছ কর্তন করেছি তার প্রত্যেকটি গাছ বনায়ন সমিতির সভাপতি খােকা নিজেই দেখিয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বনায়ন সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খােকা জানান, আমার অফিস ঠিক থাকলে সব ঠিক,
সাবাদিকদের জাবাব দিতে আমি বাধ্য নয়। এ বিষয়ে রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজনীন নাহার
ঘটনাস্থলে এসে বলেন, আমার ইউনিয়নে টেন্ডার কি টেন্ডার ছাড়া গাছ কর্তন করা হচ্ছে আমি কিছুই জানি না।
তবে আমার অবহিত করা উচিত তিনি মন্তব্য করেছেন । এ ষেয় যশাের সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা।
হাবিবুজ্জামান জানান,
ঘটনাটি আমি শুনেছি এবং আমার অফিসের লােক নসিমনসহ কাঠ জব্দ করে দপ্তরে নিয়ে
আসছে। আমি সােমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবাে। যদি ঠিকাদার শামীম হােসেন ও সভাপতি শহিদুল
ইসলাম খােকে টেন্ডারকৃত গাছাছাড়া অন্যগাছ কর্তন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবাে।