পনেরো আগস্ট : মাহমুদা রিনি

পনেরো আগস্ট
মাহমুদা রিনি

আজ পনেরো আগষ্ট
অন্ধকার বুকে করে নেমে আসে ভয়ংকর কালো রাত
হামাগুড়ি দিয়ে উঠে আসে যেন নরককুণ্ড থেকে–
সূর্যটাকে খামচে ধরে শ্বাপদের মতো।
পাথরের মত ভারি দিন– নিস্তব্ধ শীতল সময়,
চোখ জুড়ে ঝাপসা অন্ধকার।
সূর্য যেন থমকে আছে, লজ্জায় দৃষ্টি আনত।
পাখিরাও সন্ত্রস্ত, জড়োসড়ো–
বুঝতে পারছে না এ কেমন নিশিভোর!
বাতাসে নেই কোন ভৈরবী সুর,
ধ্বনিত হয়নি মুয়াজ্জিন এর আযান,
কেবলই কান ফাটানো গুলির শব্দ।

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের হৃদপিণ্ড
এফোঁড়ওফোঁড়। ঝর্ণা ধারার মত গড়িয়ে–
একটা- দুটো- তিনটে– ক্রমাগত সিড়ি বেয়ে
নামছে রক্তের ধারা—
এ রক্ত ধারা থামে না, ধীরে ধীরে রূপ নেয়
রক্ত প্লাবনে— শিরা উপশিরায় রক্ত আল্পনা
আঁকে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে।

সেদিন কাকভোর, লাল সূর্যটা সবুজের বুকে
তখনো চোখ মেলেনি।
খাকি উর্দি পরা একদল নিশাচর কাপুরষের
বুটের ধুপধাপ শব্দ, ট্যাংক আর
মেশিনগানের গুলির শব্দে কম্পিত, স্তম্ভিত
সদ্য স্বাধীন এই ভূখণ্ডের আকাশ।
বিশ্বাসঘাতকের হাতে গর্জে ওঠা আগ্নেয়াস্ত্র
একে একে কেড়ে নেয় সদ্যজাত দেশের ভবিষ্যৎ,
স্বাধীনতার মূলমন্ত্র, নবপরিণীতার মেহেদির রঙ,
অন্তঃসত্ত্বা নারী, মায়ের বুকের শিশু সন্তান
আর জাতির জনক এর প্রাণ।

আজো আঁকা সেই রক্ত চিহ্ন আল্পনা
বাংলার পথঘাট প্রান্তরে,
আজো কাঁদে সেই পিতৃহারা সন্তানেরা
প্রতিটি বাঙালির অন্তরে।
বঙ্গবন্ধু হত্যার নিদারুণ এই শোকগাঁথা
মিশে আছে প্রাণের গভীরে ,
পনের আগস্ট লেখা রবে চিরকাল–
রক্তাক্ত সোনালি অক্ষরে।