গোলক চন্দ্রের গুপ্তধনের জমিদারি ও গোলকেরহাট মহাজন হাট বাজার স্থাপনের ইতিহাস

মো.মজিবুলহক, জোরারগঞ্জ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি; দরিদ্র ঘরের সন্তান গোলক চন্দ্র চৌধুরী। পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলায়। গোলকের মা কাজ করতেন তৎকালীন ফেনীর সুর বংশীয় জমিদার বাড়িতে। এবং পিতামহ জমিদার বাড়ির নানা বিষয়াদি দেখভাল করতেন। মাঠে গরু নিয়ে একদিন গুপ্তধনের সন্ধান পান গোলকের পিতা -বদলে যায় তাদের জীবন কাহিনী।

স্থান পরিবর্তন করে চলে আসেন পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার বর্তমান জোরারগঞ্জ থানার অন্তর্গত ০৪নং ধুম ইউনিয়নে। তখন সময় ১৮৪৫ সাল। মীরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নে কিছু জমি ক্রয় করেন গোলকের পিতা। পাশাপাশি শুরু করেন অর্থ খাটিয়ে মহাজনী ব্যবসা। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আর্থিকভাবে অনেক সফলতা অর্জন করেন তারা। ধুম এলাকায় জমি কিনে গড়ে তোলেন #গোলকেরহাট বাজার।

উক্ত এলাকায় মহাজন হিসেবে খ্যাতি ছিল গোলক চন্দ্রের। বাড়ির পাশে তিনি গড়ে তোলেন আরও একটি বাজার নামকরণ হয় #মহাজনহাট। চট্টগ্রাম শহরের কালিবাড়ি ও মাঝিরঘাট এলাকায় প্রচুর জমি এবং রামগড় চা বাগান ছিল রায় বাহাদুরের। সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে এলাকায় নির্মাণ করেন ডাকঘর, দাতব্য চিকিৎসালয় ও বিদ্যালয়।

১৮৬৯ সালে স্থাপনের কয়েক বছরের মধ্যেই অর্থাভাবে যখন বন্ধের উপক্রম হয় #চট্টগ্রাম_কলেজ তখনই এগিয়ে আসেন গোলক চন্দ্র চৌধুরী। তৎকালে এককালীন নগদ ১০হাজার টাকার আর্থিক অনুদান দিয়ে পুনরুজ্জীবিত করেন কলেজটিকে। তার কৃতকর্মের ফলস্বরূপ বৃটিশ সরকার #রায়_বাহাদুর খেতাবে ভূষিত করেন গোলক চন্দ্র চৌধুরীকে। কলকাতা থেকে এই উপাধি নেয়ার পেছনে ভূমিকা রাখেন কবি নবীন চন্দ্র সেন।

#চট্টগ্রাম_কলেজঃ
১৮৩৪ সালে লর্ড বেন্টিংয়ের শাসনামলে টমাস বেবিংটন মেকলকে সভাপতি করে গঠিত হয় জনশিক্ষা সাধারণ কমিটি। এই কমিটির সুপারিশে ১৮৩৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম জিলা স্কুল। ১৮৬৯ সালে পূর্বোক্ত জিলা স্কুলে এফএ (বর্তমান উচ্চমাধ্যমিক) ক্লাস চালুর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম কলেজ। কিন্তু অর্থাভাবে এক বছরের মধ্যে কলেজটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে তৎকালীন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব কবি নবীন চন্দ্র সেনের অনুরোধে মীরসরাইয়ের #ধুম নিবাসী জমিদার রায়বাহাদুর গোলক চন্দ্র রায় ১০ হাজার টাকা অনুদান দিলে ১৮৭১ সালে পুনরায় কলেজটি চালু হয়। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন জে সি বোস। ১৯১০ সালে জিলা স্কুলকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম কলেজে ডিগ্রি কোর্স চালু করা হয়।

১৯০৫ কিংবা ১৯০৬ সালের মধ্যবর্তী কোন এক সময় যখন মারা যান রায় বাহাদুর, তখন থেকেই ওই জমিদারী বংশের পতন ঘটতে শুরু করে। এরই মধ্যে রহিত করা হয় জমিদারী প্রথা। তখন বাড়ি দুটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান রায় বাহাদুরের উত্তরসূরীরা। ওই বাড়ির মালিক হন বোম্বে থেকে আগত সালাম সাহেব। একপর্যায়ে তারাও চলে যান। এরপর ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন বসতি হিসেবে ব্যবহার করেন ঘর দুটি। এখন এগুলো বসবাসের অনুপযোগী।

তথ্যসূত্র: প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের কবি, ভুসুক পার দিনলিপি থেকে নেয়া।