নুসরাতের চিঠি : রেজাউল করিম রোমেল

নুসরাতের চিঠি
রেজাউল করিম রোমেল

কিছুদিনআগে নুসরাতের একটা চিঠি পেলাম।

চিঠিতে লেখাছিল, –

কেমন আছেন সবাই , আশা করি ভাল আছেন।

আমিও ভাল আছি , জুলুমের দুনিয়ায় বেঁচে থাকার চেয়ে

পরপারে অনেক ভাল আছি।

কিন্তু …….. কিন্তু আমিতো বাঁচতে চেয়েছিলাম।

সেদিন জবানবন্দী দেয়ার সময় পুলিশদের মধ্যে

একজন পুরুষ পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস করলো, –

সেকি তোমার গায়ে হাত দিছে ?

তার কথা শুনে মনে হল একবার বলেই ফেলি,-

ধর্ষণ আমি হইনি, ধর্ষণ হয়েছে তোদের মাথা।

আমি যে মাদ্রাসায় পড়তাম, সেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ

সিরাজুদ্দৌলা আমাকে একদিন বললো,-

তোরে আমার খুব ভাললাগে। মুখটা খোল,

তুই আমার সাথে থাক।

আমার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চেয়েছিলাম।

অনেকে আছে যারা তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া

অন্যায়গুলো চেপে যায়,

হজম করে ফেলে লোকলজ্জার ভয়ে।

অনেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না ভয়ে।

আচ্ছা আমার সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধ

যদি আপনার বোনের সাথে ঘটতো!

তখন আপনার কেমন লাগতো?

আচ্ছা আমিতো এমন কোনো পোশাক পড়তাম না,

যা সমাজের চোখে খারাপ দৃষ্টিকোটু বা অশ্লীল।

আমিতো এমন ভাবে চলাফেরা করতাম না

যে চলাফেরা এ সমাজের চোখে বেহাল্লাপনা

বেহায়াপনা বা বেলোজ্জিত । তাহলে!

আমি অন্যায়ের বিচার চেয়েছিলাম।

যার জন্য আমাকে অপমানিত হতে হল।

জীবন দিতে হল; কিন্তু আমিতো মরতে চাইনি।

আমার আলিম পরিক্ষা, এক তারিখ থেকে আমার

আলিম পরিক্ষা চলছিল।

আমার আর পরিক্ষা দেয়া হলো না।

অন্যায়ের বিচার চাওয়ায়

আমাকে আগুনে পুড়ে মরতে হলো।

চিঠির উত্তরের প্রত্যাশায় থাকলাম।

ইতি……… আপনাদের নুসরাত ।

নুসরাতের চিঠির উত্তর আমি দিতে পারিনি।

কারণ ……

এ চিঠির উত্তর আমার জানা ছিল না।