মোংলায় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত গৃহবধুর অবস্থা আশংঙ্কা জনক

আদালতে মামলা চলমান থাকলেও ভুমি দস্যুদের জমি দখলের চেষ্টা
ফিরোজ শাহ্, মোংলা :
মোংলায় স্বামীর বসত ভিটা দখলে বাধা দেয়ায় ভুমি সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে গুরুতর আহত গৃহবধুর অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে। এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ দিলে ঘটনার ৭দিন অতিবাহিত হলেও মামলা আকারে রুজু করেনী পুলিশ। সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে রক্তাক্ত জখম ওই গৃহবধু উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে কিন্ত এখনও তার অবস্থা শংঙ্কা মুক্ত নয় বলে জানিয়েছে চিকিৎসক ও তার পরিবারের সদস্যরা।
থানার অভিযোগ ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই দুপুর ২টার দিকে টিএফারুক স্কুল সংলগ্ন মোর্শেদ সড়কের বাড়ী একাই ছিল গৃহবধু রুপা বেগম। আর এ সুযোগ বুঝে বিরোধপূর্ণ বাড়ীতে ঢুকে ভুমি দস্যু সন্ত্রাসী মহিদুল ইসলাম (৫০), মোঃ রনি (২২), মোঃ জনি (২২), ইয়াসিন আকন (২৭), র“স্তম হাওলাদার (৫৫), মোঃ স্বপন (২৩), মনি বেগম (২৫), ফাহিমা বেগম (৪৫), জোহরা বেগম (৪২) সহ আরো কয়েকজন দিলে এ বাড়ী দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। মহিদুলের সাথে থাকা লোকজন বসত ঘরে ঢুকে মুল্যবান আসবাবপত্র ভাংচুর ও বাড়ী গাছপালা কেটে ফেলে এবং লুটপাট চালায়। এসময় রান্না ঘরে থাকা গৃহবধু রুপা বেগম তাদের বাধা দিলে মহিদুলের হাতে থাকা দাও দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে ওই গৃহবধু রুপা রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। তার ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে সন্ত্রাসী মহিদুলসহ পালিযে যায়। রক্তাক্ত অবস্থা রুপা বেগমকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্রে ভর্তি করে। প্রচুর রক্ত ক্ষরন হলে সেখানে রুপার অবস্থা অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় বলে জানায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রের চিকিৎসক ডাঃ জোহরা তাবাসসুম। খুলনা হাসপাতালে দীর্ঘ ৭দিন চিকিৎসারত রুপা বেগম মৃত্যর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। খুলনা মেডিকেলের চিকিৎসকরা বলছেন, রুপা বেগমের মাথায় ধারালো আস্ত্রের আঘাতে প্রচুর রক্ত খরন হয়েছে। শরিরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের প্রাপ্ত হয়েছে, যার কারনে সুস্থ্য হতে সময় লাগবে।
আহত গৃহবধুর শাশুড়ী নুর নাহার বেগম জানায়, আমি ১৯৯৯ সালে পৌর শহরের মোর্শেদ সড়ক এলাকায় আফজাল তালুকদারের সাথে সাড়ে ৫কাঠা জমির বায়না চুক্তি করা হয়। ওই জমির ১/১ নং- খতিয়ান ভুক্ত হওয়ায় নিদিষ্ট সময়ে বায়না দাতা বায়নাকৃত জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে পারেনী। তবে ওই জমিতে বসবাস ও ভোগদখল করার জন্য আমাকেই অনুমতি দেয়া হয়েছে আফজাল তালুকদার। এদিকে বায়নাকৃত জমি আলমগীর হোসেন’র নামের অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে আফজাল। তাই দীর্ঘদিন জমি রেজিট্ট্রি না দেয়া ও অন্যের কাছে বিক্রি করা নিয়ে আদালতে মামলাও করা হয়েছে, যার আমাকে রায় দিয়েছে। আমি আদালতের রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ঘর বাড়ী তৈরী করে বসবাস করার পরেও এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যাক্তির ইন্দোনে মহিদুল ভুয়া মালিক সেজে তার লোকজন নিয়ে এ জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। যার বাধা দেয়ায় আমার পুত্রবধু আজ মৃত সজ্জায়।
এদিকে, আহত গৃহবধুর স্বামী মোঃ রাজু বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২/৩জন ছাড়াও ৯জনকে অভিযুক্ত করে মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। কিন্ত আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ঘটনার ৭দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা রুজু বা আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টাও করেনী পুলিশ বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। এনিয়ে এলাকা জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মহিদুল জানান, নুর নাহার বেগমের জমির উত্তর পাশে তার সাড়ে ৫শতক ক্রয়কৃত জমি রয়েছে, যা নিয়ে তার সাথে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। এটি সমাধান জন্য সহকারী পুলিশ সুপার (মোংলা সার্কেল) বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে কিন্ত বার বার তার দপ্তরে ডাকা সত্যেও নুর নাহার বেগমের লোকজন হাজির হয়নী। এছাড়া মারামারীর ঘটনা তার জানা নাই বলে জানায় মহিদুল।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, টিএফারুক স্কুল সংলগ্ন এলাকায় মারামারীর বিষয়টি শোনার সাথে সাথে সহকারী পুলিশ সুপারসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। আহত গৃহবধু খুলনায় চিকিৎসাধীন থাকায় একটু বিলম্ব হচ্ছে তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মোংলা সার্কেল) মোঃ আসিফ ইকবাল জানান, একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল কিন্ত বিরোধী পক্ষ আসেনী। পরে দু’পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় পুলিশের এ কর্মকর্তা।