মেঘবতীর জন্মদিন : নুর মোহাম্মদ মেহেদী

মেঘবতীর জন্মদিন
নুর মোহাম্মদ মেহেদী

হঠাৎ শখ হল সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার। কিন্তু সামনে
অনন্ত জল,ঠিকানাহীন আকাশ,দিগন্তে অন্ধকার
ভ্রুকুটি! পারাপারের নৌকা নেই,ঢেউ অতিক্রম করার
সাহস নেই,ভীষণ বৃষ্টি আসছে,হয়ত ঝড়ও…আগুনের
মত গনগনে ঘোলাটে চোখ নিয়ে বালুতে বসে আছি
একা। সময় এগোচ্ছে,এগোচ্ছে নিকষ অন্ধকারের
গাঢ়ত্ব,দ্রুত। হাঁটতে শুরু করলাম বালিপথ ধরে।
সামুদ্রিক হাওয়ায় তখন ভাসছে আমার অতৃপ্তি!

দেখা হয়ে গেল একটা নৌকার সাথে। এক মাঝি সারা নৌকা ভরিয়ে খোদাই করে লিখছে আলো আর
আর্তনাদের কাব্য। ছেনী, হাতুড়ি নিয়ে নেমে পড়লাম
আমিও। বিষাদ লিখতে লিখতে হঠাৎ সন্ধ্যা নামল।
তুমুল বৃষ্টি এবং তারপর মেঘ উধাও। রওনা দিলাম
অসীমে,অসীম যাত্রাপথে…আকাশ তখন ভাসছে
জোৎস্নায়।

আমরা ভাসছি আজও। ক্লান্তি নেই। জীবনের কবিতা
খোদাই করছি নিজেদের বুকে। প্রত্যেকটা ঢেউ যত
তীব্র আঘাত করছে বুকের মাঝ বরাবর, ততই
বাড়ছে বোঝাপড়ার সুতোয় টান। নৌকা চলছে,
গন্তব্যহীন অসীম যাত্রাপথে। সেদিনের সেই মাঝির সাথে না দ্যাখা হলে, আজ বোধহয় সমুদ্রে পাড়ি- দেওয়াই হতনা।

মাঝির জন্মদিন এক এক টা স্রোত নতুন করে অতিক্রম করতে করতেই হয়। আর যারা বিষাদ লেখে
জোৎস্নায়,তারাও জন্মায় এক একটা শব্দের বিশুদ্ধ
সৃজনে! আপাতত ভালোবাসাই দিলাম প্রিয়,
ভবিষ্যতে মুঠো ভর্তি করে কান্নাও দিতে পারি।