ইচ্ছামতীর গল্প : অরিজিৎ

ইচ্ছামতীর গল্প
অরিজিৎ

শোনো এক গল্প বলি তবে,
সময়টা আজ ঠিক মনে নেই,
সেই যে নদী, ইচ্ছামতী নাম
এপার গাঁয়ের ডাকবাক্সে ওপার চিঠির খাম,
জবাব চেয়ে মাস পেরোলো
জবাব আসে কবে !
শোনো আজ ইচ্ছামতীর গল্প বলি তবে।
তার গল্প সেই লেখে, আমি লেখার কে ?
পাগলি নদী মন মেলালো
কখন আবার ঘর ছাড়ালো
এপার ছেলের ভাগ্যে জোটায় ওপার দেশের মেয়ে।
সে তো না হয় মিললো দু মন
কিন্তু দুকূল মিলবে কখন ?
কেমন করে করবে নদী ইচ্ছাপূরণ কবে ,
শোনো আজ ইচ্ছানদীর গল্প বলি তবে।
রোজ বিকেলের নামাজ শেষে
পাঠায় চিঠি এপার দেশে
আদাব জানায় ওপার মেয়ে, সঙ্গে মনের হাল,
জানায়, যদি পেলাম তোমায় বাঁচবো তবেই
ইচ্ছামতীর পানির ভিতর নইলে ইন্তেকাল।
মাস পেড়িয়ে ঘুরলো বছর, ঘুরবে নসিব কবে
শোনো আজ ইচ্ছামতীর গল্প বলি তবে।
চিঠির ভাঁজে কান্না দেখে
এপার থেকে জবাব লেখে,
এমন কথা বললে আবার রাগ করবো জেনো,
ঠাকুর আছেন, তার উপরেই ভরসা আমার
মরার কথা ঘুনাক্ষরেও বলবে না কক্ষনো।
কেউ জানে না, ওরাই জানে ইচ্ছামতীর কথা
চোখের জলে পুষ্ট নদী, স্রোত যে মনের ব্যাথা,
সেই জানে ইচ্ছে কি তার, জানবে কেমন সবে,
শোনো এক পাগলি নদীর গল্প বলি তবে।

তারপর…. ?
গড়িয়েছে জল যেমন গড়ায়,
বৃষ্টি এসে দুকূল ভরায়
প্রেম ছাপানো হৃদয়দুটি চিনলো না তো কেহ,
কাজল কালো মেঘের ভোরে
ইচ্ছামতীর জলের ‘পরে,
এপার ছেলের ওপার মেয়ের ভাসলো দুটি দেহ।

ইচ্ছামতী ইচ্ছামতোন খেললি রে তোর খেলা
কাটলো সময়, কাটলো বছর, কাটলো কত বেলা,
কেমন তর পাষাণ নদী দুই দেশেরই সই
তবুও দুটি মনের সুতো কাটতে পারলি কই?
রক্তে রাঙা ইচ্ছামতী আবার খেলবি কবে ?
আবার দুপার মিলবে, আবার জলেই নিথর হবে।