ঝরা ফুল : আতিয়ার রহমান

ঝরা ফুল
আতিয়ার রহমান

নীল আকাশ, প্রকৃতি পরে আছে সবুজ শাড়ী
বিচিত্র ফুলে সাজান বাগান আর বসত বাড়ি।
এ যেন মহিমান্বিত ধরিত্রীর এক অপরুপ গর্ব
গগন থেকে নেমে আসা তারকা সজ্জিত স্বর্গ।

চারিদিকে সুশোভিত বাতাস,বহমান নদীনালা
মৌমাছির গুঞ্জন, পাখির ডাক, সকাল বেলা।
ভোরের সু-মিষ্ট বাতাস লাগে, হৃদয়েরই পালে
রাঙ্গিয়ে দেয় আঁখি,ভরিয়ে দেয় মন, বিকালে।

সবুজ মাঠে কৃষকের কাজ, দেখেই ভরে প্রাণ
নদীতে নৌকা চলে ও মাঝির মন মাতান গান।
চেনা অচেনা, সুগন্ধি,গন্ধবিহীন অসংখ্য ফুলে
ফুটন্ত,অফুটন্ত ও ভিন্ন রং-এ ভরা ফুলে ফলে।

ফুলের নানাবিধ ব্যবহার অস্বীকার করার নয়
সব ফুলে অনেক কিছুই হয়,যায়না পুজালয়।
অনেক যত্নে গাছ থেকে, ফুলগুলি তোলা হয়
কিছু ফুল সহসা ঝরে পড়ে থাকে গাছ তলায়।

পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে,নষ্ট হয় সব ঝরা ফুল
পয়সায় তা কেনেনা কেউ,করেনা কানের দুল।
ধনীর ছেলেমেয়ে জন্ম নেয় সোনা-চামচ মুখে
দরিদ্রের ছেলেমেয়েরা পৃথিবীতে আসে দুঃখে।

থাকা,খাওয়া,পরিধানই তারা ঠিকমত পায়না
প্রসাধনী ও আরামদায়ক সব মূল্যহীন বায়না।
ধনীর সন্তানেরা লেখা পড়া করে দেশ বিদেশে
গরীবের সন্তানেরা পড়ে থাকে বস্তি পরিবেশে।

কৃষকের সংসারে টানাপোড়ন কষ্টের নাই অন্ত
বাৎসরিক কোন উৎসব এলে ভেঙ্গে যায় দন্ত।
পড়া লেখা হয়না, অনেকে উপার্জনে দেয় মন
জীবন যুদ্ধে থাকতে হয়,নিশ্বাস থাকে যতক্ষণ।

ঝরাফুলের মত হতে হয় তাদের পদতলে পিষ্ট
জীবন তাদের করেনা ক্ষমা সারাজীবনেই কষ্ট।
লেখাপড়া নাই, চাকরী নাই, হালবিহীন নৌকা
যেখানে যায় সেখানে পায় ঘাড় ধাক্কা, ধোঁকা।

নাই টাকাকড়ি ,মামা খালু এদের সংখ্যাই বেশী
মা বাবার মুখে ফুটাতে পারেনা এতটুকুই হাসি।
অভাবের সংসারে জবান ঠিক রাখা হয় কঠিন
নানা দিক দিয়ে জড়িয়ে ফেলে ছোট বড় ঋন।

সুকৌশলী নেতারা সব গ্রহণ করে নেয় সুযোগ
অগণিত যুবক যুবতীকে পোহাতে হয় দুর্ভোগ।
কষ্টেই তাদের জীবন শুরু, কষ্টেই জীবন শেষ
এদের বাইরে রেখে কখনও গড়া যাবেনা দেশ।

সৃষ্টির সেরাই মানব জাতি, কেউ না পায় কষ্ট
জীবন যুদ্ধে নেমে কারো,জীবন না হোক নষ্ট।
সমাজপতি, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রী
সকলেই মিলে গড়ব দেশ, থাকবে চির মৈত্রী।