হাজার বছর পরে : জোবায়ের হোসেন

হাজার বছর পরে
জোবায়ের হোসেন

হাজার বছর পরে আবার আসবো ফিরে,
কোন এক নতুন ঠিকানায় নতুন দিগন্তের নিচে।
মিথ্যে অহংকারের এই ধূসর অন্ধকার জগত ছেড়ে,
যেদিন চলে যাবো অন্য এক রূপকথার জগতে ।
সেই অচেনা জগতটায় আবার দেখা হবে দুজনার- নতুন কোন রূপে।
সেই অচেনা নতুন জগতে,
কোন এক শ্রাবণ সন্ধ্যায় ভিজবো দুজন বৃষ্টির ঝুম বরিষণে,
নির্ভয়ে করবো প্রেম বিনিময় হারিয়ে যাবো মধুর আলিঙ্গনে।
আমাদের ভালবাসার পরশ পেয়ে,
তীব্র রোদের খরতাপে পোড়া শুকনো গাছের শাখায় শাখায় আবার ফুটবে ফুল,
গাছে গাছে গাইবে পাখির কাকলী নৃত্য নাচের তালে।
সেখানে থাকবে বিশাল সমুদ্র,
থাকবে বালিকণা,ঝিনুক, সমুদ্রের জলের ঢেউ,
ভালবাসার উত্তাল যৌবন নিয়ে আছড়ে পড়বে সমুদ্রের জল,
সমুদ্র পাড়ে জেগে থাকা বালিকণার পিঠে,
আর তুমি বালিকনার বুকে দৃপ্ত পায়ে হেঁটে হেঁটে সাগরের ঢেউ ছোঁবে।
সেদিন তুমি প্রাণ খুলে হাসবে,
আনন্দের জোয়ারে ভেসে যাবে দৃপ্ত অঙ্গ দুলে।
আমরা দুজনে সেদিন সমুদ্র স্নানে যাবো,
সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের নীড়ে।
মনের আনন্দে ভেসে ভেসে হারিরে যাবো মোরা কোন এক অচেনা গন্তব্যের পথে,
যেথায় রক্তবর্ণ সূর্যটা ঢলে পড়বে ভালবাসার ডাকে,
যেখানে লিখাহবে স্বর্ণখচিত অক্ষরে ভালবাসার নাম।
সেখানে দেখবো তোমার মায়াবী মুখ খানি অপলক চোখে চেয়ে ।
মুখোমুখি বসে তুমি আর আমি,
হারিয়ে যাবো শত ভালবাসার ভীড়ে।
একদিন ফিরে আসবো কবির বেশে ,
আবার লিখবো ভেঙে যাওয়া গল্প,নিদারুণ শব্দশৈলী গেঁথে।
সেদিন দুজনার চোখে চোখ রেখে হবে কথা – হবে প্রেম বিনিময়।
এপাড়ের জীবনটাতো এলোমেলো ছন্নছাড়া কেটে গেলো,
দুঃখের কষাঘাতে জীবনটা জর্জরিত হয়ে।
শুনেছি এই ভুবনে নাকি মানুষের ইচ্ছে গুলা অপূর্ণই রয়ে যায়,
মানুষের মিথ্যে অহংকারের বেড়াজালে আটকা পরে যায় ভালবাসা,
তাই আমাদের ইচ্ছেটাও পূরণ হয়নি।
কিন্তু আমরা যেখানে যাচ্ছি মৃত্যুর পথে যাত্রী হয়ে,
সেখানে সব ইচ্ছেই পূরণ হয়।
সেখানে থাকবেনা আর জাতের বেড়াজাল,
সেখানে থাকবেনা হিংসা বিদ্বেষ আর অহংকারের দম্ভ ,
সেখানে থাকবে শুধু ভালবাসা আর জীবনের অমরত্ব সুখ।
আবার দেখাহবে সেই পৃথিবীর মাঝে,
আবার হবে প্রেম বিনিময় দুদণ্ড মুখামুখি বসে।