সাংবাদিক শামছুর রহমানের ২০তম হত্যবার্ষিকী পালিত

টাইম ভিশন ২৪

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর :
এবার বিচারের দাবির মধ্যদিয়ে যশোরের শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল’র ২০তম হত্যাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবসটি উপলক্ষে যশোরের সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মস‚চি গ্রহণ করে। সকালে প্রেসক্লাব যশোর, বাংলাদেশফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন,সাংবাদিকইউনিয়ন যশোর, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও স্থানীয় গণমাধ্যমের কর্মীরা শহরের কারবালায় শামছুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। সংগঠন ওগণমাধ্যমের পক্ষ থেকে শহীদের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এরপর সেখানে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দায়া করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর সদস্যরা কালো ব্যাজ ধারণ করে। প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিকরা শোকর‌্যালি নিয়ে কারবালা করস্থানে যান। কর্মস‚চিতে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ন‚র ইসলাম, সম্পাদক আহসান কবীর, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সহ সভাপতি মনোতোষ বসু, যুগ্ম মহাসচিব সাকিরুল কবীর রিটন, সদস্য ন‚র ইমাম বাবুল, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক মিলন রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি শহিদ জয়, যুগ্ম সম্পাদক এসএম ফরহাদ, সাংবাদিক নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টু, যশোর জিলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ, সাধারণ সম্পদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম প্রমুখ। নিহতের ভাই ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) সভাপতি সাজেদ রহমান জানান, হত্যাকাÐের বিশ বছরেও বিচার পেলাম না। প্রতি বছরই বিচার দাবি করে আসাছি। ১৫ বছর ধরে মামলার বিচার কাজই বন্ধ রয়েছে। একাধিক বার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতকালে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে শামছুর রহমান হত্যাকাÐের বিচারের দাবিটি গুরুত্বের সাথে তোলা হয়। এছাড়া একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও
দিয়েছে সংগঠন। কিন্তু এ নিয়ে কোন অগ্রগতি হয়নি। যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম ইদ্রিস আলী জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশের কারণে শামছুর রহমান হত্যা মামলার বিচারকাজ বন্ধ হয়ে আছে।
আদালত ও মামলা স‚ত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে সাংবাদিক শামছুর রহমান খুন হবার পর ২০০১ সালে সিআইডি পুলিশ এই মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ওই সময় বিগত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েক আসামির আগ্রহে মামলার বর্ধিত তদন্ত করে শামছুর রহমানের
ঘনিষ্ট বন্ধু সাংবাদিক নেতা ফারাজী আজমল হোসেনকে নতুনকরে আসামি করা হয়। একইসাথে মামলার গুরুত্বপ‚র্ণ সাক্ষীকে বাদদিয়ে সাক্ষী করা হয় আসামিদের ঘনিষ্টজনদেরকে। এতে একদিকেমামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়; অন্যদিকে দুর্বল হয়ে যায়চার্জশিট। এরপর বিতর্কিত ওই বর্ধিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের
পর ২০০৫ সালের জুন মাসে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে এইমামলার চার্জ গঠন করা হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে বাদীর মতামত ছাড়াই মামলাটি খুলনার দ্রæত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এ অবস্থায় মামলার বাদী শহীদ শামছুর রহমানের সহধর্মিণী সেলিনা আকতার লাকি বিচারিক আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিল
আবেদনে তিনি বলেন, মামলার অন্যতম আসামি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিরক পলাতক রয়েছে। হিরকসহ সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যান্য আসামিদের সাথে খুলনার সন্ত্রাসীদের সখ্যতা রয়েছে। ফলে তার (বাদীর) পক্ষে খুলনায় গিয়ে সাক্ষী দেয়া খুবই ঝুঁকিপ‚র্ণ। বাদীরএই আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটি কেন
যশোরে ফিরিয়ে দেয়া হবে না- তার জন্য সরকারের উপর রুলনিশিজারি করেন। এরপর মামলার আসামি ফারাজী আজমল হোসেন উচ্চআদালতে একটি রিট করেন। সেই রিটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।