গ্রাম্য রাস্তা :আতিয়ার রহমান

গ্রাম্য রাস্তা
আতিয়ার রহমান

গ্রামগন্জে রয়েছে অনেক কাঁচা এবং পাকা রাস্তা
সবুজ বনানীর মধ্যদিয়ে, এক অপরুপ সু-ব্যবস্থা।
দু’পাশে বিচিত্র অসংখ্য বৃক্ষ নাম জানা বা অজানা
দাঁড়িয়ে আছে সারি দিয়ে তারা এটি স্থায়ী ঠিকানা।

আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে চলে, যত হরেক রকম গাড়ি
কেউবা চলে গ্রামের বাড়ি, কেউ দেয় বহুদুর পাড়ি।
কেউ বহন করে জিনিষপত্র,কেউবা বহে নতুন বউ
সবুজ সুফলা ফসল দু’পাশে,আছে ফুলে ফুলে মৌ।

দু’পাশে দোকান ঘর এবং মাঝে মাঝে হাট বাজার
দেখতে ভালই লাগে ;কিন্তু চলা চল খুবই কষ্টকর।
গরু-গাড়ি, মহিষ-গাড়ি,মোটরবাইক ও ভ্যানগাড়ি
যেতেই হবে তাড়াতাড়ি, তাই বেঁধে যায় হুড়োহুড়ি।

একেতো রাস্তা সরু,বাঁধা থাকে আবার ছাগল গরু
ট্রাক, মাইক্রো ও ট্রাক্টরের কর্ম প্রতিযোগিতা শুরু।
মোটরবাইক চালান যায়না,হাঁটতে গেলে ধূলাবালি
সব পোষাকের একই অবস্হা সাদা কাপড়ে কালি।

পাশে বসে এড়ানো ও রাস্তার ধারে শুকান হয় পাট
মাঝে মধ্যে মনে হয়, রাস্তা বাচ্চাদের খেলার মাঠ।
ধান, ছোলা, মশুরি, তিল,তিসি, সরিষা, যব ও গম
এদের মধ্যে যব-গম দূর্ঘটনায় মোটরবাইকের যম।

যে জন যায় বেড়াতে, স্কুলে,কলেজে বা অফিসে
নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয় ভয় কিসে!
হঠাৎ কেউ কেউ অবচেতন মনে দূর্ঘটনায় পড়িলে
গ্রামবাসীরা কেউ বা আসে ছুটে নিয়ে তা আমলে।

দুইটি বড় গাড়ির ওভারটেকিং প্রায়ই সম্ভব হয়না
মাত্রাতিরিক্ত বাঁকের কারণেও, ঘটে যায় দূর্ঘটনা।
দুরের কিছুইতো দেখা যায়না গাছপালার প্রভাবে
সন্ধ্যার পরে চলাচলে অসুবিধা আলোর অভাবে।

যে সব রাস্তা এখন কাঁচা অনেকটা কাঁদার দখলে
চলাচলে অনেক অসুবিধা,কাজকর্ম যায় বিফলে।
কার্পেটিং যতটুকু হয়েছে, পিচ ও খোয়ার শূন্যতা
কার কী কাজ কেইবা দেখে,সবাই দেখায় ব্যস্ততা।

অনেক জায়গায়ই নদী পথে, ব্রিজ বা নৌকা-ঘাট
এপারওপার দু’পাশেই বসে সাপ্তাহিক বাজার হাট।
এপাড়ের লোক ওপাড়ে যায়, ওরা আসে এপাড়ে
মাঝে মাঝেই সমস্যা হয়, নৌকা-ঘাটে পারাপারে।

পাহাড়ি অঞ্চলেও পাহাড়ি পথ, চলছে আঁকাবাঁকা
আশে পাশে খুব কম বাড়ি ঘর, রাস্তা প্রায়ই ফাঁকা।
গাড়ি-ঘোড়ায় চলাচল কম, পায়ে হাঁটাহাটিই বেশী
হাঁটতে অনেক কষ্ট হয়, খুব ব্যথা হয়ে যায় পেশী।

মানুষের জীবনও রাস্তার মত অনেক বাঁধা বিপত্তি
সমস্যার পর সমস্যা আসে করতে হয় তা নিষ্পত্তি।
এপথ তার শেষ যে কোথায়, ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে চলে
মাটির পৃথিবী ছেড়ে যেতেই হবে কর্মের শেষ হলে।