ইচ্ছে বেলা : শ্রাবণী দাস

শ্রাবণী দাস । টাইম ভিশন ২৪

ইচ্ছে বেলা
শ্রাবণী দাস

যখন চাঁদের গায়ে হলুদের আভা পড়েনি।রঙিন আকাশ খানা আঁধার দেখেনি।আমার ঘরের এক চিলতে উঠোনে যখন বিকেলের আলোছায়ার লুকোচুরি , তখন আমার খেলার সময় ।
যখন বিকেলের দমকা হওয়া কাগজের উড়োজাহাজ টাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় ছোট্ট গলিটার এ মাথা থেকে ও মাথা ।
আমিও ছুটে যাই তার পিছুটানে।
মন বলে দেখি না কোথায় গিয়ে শেষ হয় তার উড়ান।
যদি উড়ান শেষে পাই নতুন রূপকথার গল্প কিছু ।

শ্রাবণের আঝোর ধারায় এক হাঁটু জল জমা ছোট্ট গলির রাস্তাটা যখন নদী।স্কুলের কবিতার খাতার শেষের পাতাগুলো তখন মাঝিহীন দুঃসাহসী ছোট্ট কাগজের নৌকো।জানে সামনে মৃত্যু ।তবুও ভেসে যায় নিজের ছন্দে ঘোলাটে রাস্তা নদীর বুকে।
আমার রূপকথার খোঁজে ।

একদিন বিকেলে ছোট্ট গলিটার মোড়ে উড়োজাহাজ উড়ান শেষে
তোকে পেলাম।তারপর আর উড়োজাহাজ নেই , ছোট্ট কাগজের নৌকো গুলো মৃত্যুকে জয় করে হয়তো পেয়েছে রূপকথার খোঁজ ।
তুই তো এখন আমার বিকেলের একমাত্র দৃশ্য ।তোকে আঁকড়ে ধরলাম চুরি যাওয়া গোধুলির ফাঁকে।কবিতার খাতার শেষের পাতা গুলো আর ছেঁড়া থাকে না।তাতে একের পর এক কলমের আঁচড়ে ফুটে ওঠে তোর সাথে সব বিকেলের কথা ।আমার সূর্য ডোবা বিকেল আজ বড়ো অভিমানী।কিন্তু তাকে কি করে বোঝাবো ।আমার বিকেলের ছোট্ট গলির বাতাস এখন তুই।তুই আমার প্রতি বিকেলের সূর্য ডোবা আকাশ।তাই আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে দেখবো একচিলতে ছাদ থেকে পশ্চিমের সূর্য ডোবা।
আর মূহূর্তগুলোকে এঁকে রাখবো রূপকথার রঙে।
তবুও…….
কোনও এক বিকেল যদি তোর সাথে কাটানো শেষ বিকেল হয়।
তবে কি? আবার বিকেলের বাতাসে ফিরে আসবে আমার কাগজের উড়োজাহাজের দল।
অভিমানী সূর্য কি সব অভিমান ভুলে মেনে নেবে আমাকে।রূপকথার দেশ কি ফিরিয়ে দেবে আমার কাগজের নৌকো গুলো।।