যশোরে দুর্ভোগের মধ্যে জীবন যাপন করছে ট্রাক্টর মালিক ও শ্রমিকেরা

আব্দুল করিম রাজন : করোনাভাইরাস বর্তমান বিশ্বে এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবথেকে ভয়ঙ্কর ভাইরাস। একের পর এক চলতে থাকে লকডাউন যার প্রভাব পড়েছে দেশের ট্রাক্টর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের উপর। গত কয়েক মাস ধরে প্রাণঘাতী ভাইরাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যশোরে ট্রাক্টর মালিক ও শ্রমিকেরা ভোগান্তির মধ্যে জীবন যাপন করছে।কর্মহীন আতঙ্কিত এসব মানুষেরা গুনতে থাকে দিন, কবে মিলবে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস।

যশোর ট্রাক্টর মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী চাঁচড়া পুলেরহাটসহ সদর উপজেলায় ৪ শতাধিক ট্রাক্টর রয়েছে। এসব ট্রাক্টর কৃষি চাষাবাদ ও টলি দ্বারা মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহারিত হয়। এই কাজের সাথে জড়িত আছে প্রায় পাঁচশত শ্রমিক।

এমনই কয়েকজন শ্রমিক মিলন, আইজুল, মকবুল, ঈমান, হবি, টগর, জানান এমনিতে করোনা ভাইরাসের লকডাউন ও তার ওপরে ঘনঘন বৃষ্টি, চার মাস ধরে বসে আছি। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টের মধ্যে পড়তে হচ্ছে, সামনে বর্ষার মৌসুম বসে থাকতে হবে আরো কয়েক মাস, অন্য কোন কাজও পাচ্ছি না। কিভাবে চলবে আমাদের সংসার জানিনা। এভাবে চলতে থাকলে পথে বসতে হবে। সরকারের কাছে দাবি জানাই মানবিক সহায়তার তালিকার আওতায় নিয়ে এসে আমাদেরকে অনুদান দেওয়া হোক।

অন্যদিকে, ট্রাক্টর ব্যবসায়ী জুবায়ের, আমিনুর, আনার, খোকন, সাইফুল বলেন বছরের ৬/৭ মাস আমাদের গাড়ি চলে বর্ষার মৌসুমে বন্ধ থাকে এবছরে করোনার শিকার হয়ে লকডাউন থাকাই শুকনো মৌসুমে ব্যবসা করতে না পারায় দিশেহারা হয়ে গেছি। আমাদের ট্রাক্টর ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই ঋণ করে গাড়ি কেনাতে বিপাকে পড়েছে। কিস্তি ঠিক মত না দিতে পারায় গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন গাড়ি বসে থাকার কারণে নষ্ট হচ্ছে ব্যাটারি সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এভাবে চলতে থাকলে বিলীন হয়ে যাবে আমাদের ব্যবসা।

যশোর ট্রাক্টর মালিক সমিতির সভাপতি আকতার হোসেন জানান অনেক বছর ধরে চলে আসছে আমাদের এই ব্যবসা। যশোর অঞ্চলসহ দেশের অনেক জেলাতে চাষাবাদ ও টলি দ্বারা পণ্য পরিবহনের কাজ করে আসছে। বর্তমানে সময়ে মহামারি করোনা ভাইরাসে গত কয়েক মাস লোকসান গুনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে ট্রাক্টর মালিক ও শ্রমিকদের উপরে, চোখে মুখে হতাশা নিয়ে জীবন যাপন করছে । হুমকির মুখে পড়েছে এই ব্যবসা। এর অবস্থার মধ্যে ট্রাক্টর ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে ব্যবসায়ীদেরকে সরকার সীমিত লাভে ঋণ দেয় হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে আশাবাদী।