মোংলায় কিশোরী জন্ম দিলেন কন্যা সন্তান ,নবাগত সন্তান পাচ্ছেনা পিতৃ পরিচয়

ফিরোজ শাহ্,মোংলা: বিয়ের প্রলোভনে মাসের পর মাস ধর্ষন, ফলে ধর্ষিতা কিশোরীর গর্ভে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। মোংলা উপজেলার মালগাজী মিশনবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটলে ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের পিতৃ পরিচয় পেতে সমাজপতি ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় বাবুল মন্ডলের মেয়ে পাপিয়া মন্ডল। তবে কিশোরীর দাবী অনাগত এ সন্তানের পিতা একই গ্রামের বাশতীন সরকারের ছেলে পার্থ সরকার। এলাকাবাসী বলছে,‘কে হবে এই নবাগত সন্তানের বাবা?’ কে এর ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিবে এমন সামাজিক একাধিক প্রশ্নের সম্মুক্ষিন ধর্ষিতা কিশোরী ও তার পরিবার। তবে ধর্ষক পলাতক থাকার কারনে এবং এলাকার প্রভাবশালীদের চাপের মুখে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের বিচার পাচ্ছেনা অসহায় ওই কিশোরী।
নির্যাতিতা ওই কিশোরী ও এলাকাবাসী জানায়, মোংলা উপজেলার চাদঁপাই ইউনিয়নের মালগাজী গ্রামের পার্থ সরকারের সাথে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই স্কুলে যাওয়ার পথে পরিচয় হয়। এই থেকে পার্থ সরকার কারনে অকারনে প্রায়ই আসা যাওয়া করতো পাপিয়ার বাড়ীতে। ২০১৯ সালে থার্টি ফাষ্ট নাইট রাতে পাপিয়াকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে একাধিক বার ধর্ষন করেন পার্থ সরকার। তাকে বিয়ে করবে বলে প্রলোভন দিয়ে এ ধর্ষনের কথা কাউকে কিছু না বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে পার্থ। পার্থ’র পরিবার কিশোরী পাপিয়াকে এই মুহুর্তে মেনে নেবেনা বলে তাকে অন্যাত্র গিয়ে থাকতে বলেন ধর্ষক পার্থ সরকার। কিশোরী পাপিয়ার এক বান্ধবীর সহায়তায় তারা বিয়ে করে সংসার করবে বলে আশ্বাস্ত করে ঢাকায় যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন পার্থ। তার কথামতো ২০১৯ সালে ১৩ অক্টোবর ঢাকা গিয়ে এক বান্ধবীর বাসায় ওঠেন পাপিয়া। কিছুদিন ঢাকায় থাকার পর সাময়িক অসুস্থ হয়ে পরে কিশোরী পাপিয়া। আশ্রায় দেয়া বান্ধবীর সহায়তায় শারীরীক উন্নতির জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায় কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্তা। এমন খবর পেয়ে লোক লজ্জার ভয়ে পরিবারের কাউকে কিছু না বলে ধর্ষক পার্থ সরকারকে দ্রুত ঢাকায় আসতে বলে এবং বিয়ের জন্য চাপ দেয় পাপিয়া।
পাপিয়া অন্তঃসত্তা খবর পেয়ে ধর্ষক পার্থ সরকার ৩০ নভেম্বর ঢাকায় আসবে বলে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় এবং কিশোরীর সাথে ফোনে যোগা যোগ বন্ধ করে দেয় সে। বিষয়টি মার্মান্তিক মনে করে বান্ধবী অঞ্জলী সব কিছুই পাপিয়ার বাবা-মাকে জানালে তারা পার্থ’র পরিবারের সকলকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পার্থের পরিবার সব কিছুই অস্বীকার করে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি মেম্বারের সহায়তায় কিশোরীকে অন্তঃসত্তা বাচ্চাসহ প্রান নাশের হুমকি দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী ঢাকার গাজীপুর কাশেমপুরের জিয়ানী এলাকার জিয়া মেডিকেলে সিজারের মাধ্যমে ধর্ষিতা কিশোরী একটি কন্যা সন্তানের মা হন।
কিশোরী আরো বলেন,‘আমি যে আমার সন্তানের একটা নাম রাখবো সেই সৌভাগ্যও আমার হয়নি। যেদিন আমি প্রসাব বেদনায় ছটফট করছিলাম, সেদিনও পার্থকে বার বার ফোনের মাধ্যমে ঢাকায় আনার জন্য চেষ্টা করেছি কিন্ত আমাকে সে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিছে এবং অনাগত সন্তানকে অন্যাত্র অনাত আশ্রমে ফেলে দেয়ার জন্য বলেছে পার্থ। প্রভাবশালী ওই জনপ্রতিনিধি পার্থের পরিবারের সাথে ঘনিষ্টতা থাকার কারনে এবং একটি রাজনৈতিক মহলের দাপটে আমাদের এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে চলছে। পাপিয়া বলেন, না পেলাম স্ত্রীর মর্যদা, তারপর হলাম সন্তানের মা। পার্থর কারনে এলাকায় বের হতে পারছিনা, আমার পরিবারের কাউকে দেখলেই মানুষ বিভিন্ন রকম বাজে কথা বলে। জীবনে বেচে থাকার কোন পথ নেই আমার। আমি আর কিছু চাই না, আমার অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই, এ বলে চিৎকার দিয়ে কেঁদে ফেলে তরুণী পাপিয়া।
তবে এমন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ধর্ষক পার্থ সরকারের মা মারিয়া বলেন, আমার মানসম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য এলাকার একটি কৃচক্রীমহল ছেলের নামে মিথ্যা অভিযোগ রটাচ্ছে। আমার ছেলে পালিয়ে যায়নী সে বাড়ীতেই আছে। নবাগত সন্তানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বলেন, ও সন্তান আমার ছেলের জন্মের না। বেশ কিছুদিন ঐ মেয়ে ঢাকায় অবস্থান করছে, সেখানে কারো সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিলো, হতে পারে অন্য কারো জন্মের।
চাদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন,‘আমরা স্থানীয় ভাবে ঘটনার পর থেকেই ছেলে মেয়কে বিয়ের জন্য বলেছি। ছেলে পলাতক রয়েছে এবং তার মা মারিয়া সরকার কাউকেই তোয়াক্কা করছেনা না। যার কারনে কোন ধরণের মিমাংসা করানো সম্ভব হয়নী। তবে স্থানীয়বাবে না মিটলে আমরা কিশোরীকে সহায়তা করবো, আদালতে মামলার মাধ্যমে ডিএনএ’র রিপোর্টে সন্তানটির পিতৃ পরিচয় পাওয়া যাবে।