চায়ের ঘরের আড্ডা : রিকতা আকতার

চায়ের ঘরের আড্ডা
রিকতা আকতার

ভিন্ন জাতির ভিন্ন মতি বিলাসে রুচি কড়ির যোগ বিয়োগের দরকষাকষির স্থান চায়ের ঘর…
এখানে জড়ো হয় উঁচু হতে শেকরের জীবন ঘানি টানা তরুন যুবা, বৃদ্ধ, অাবাল!
চায়ের কাপের ঝনঝনানি চামচে চিনি তোলা যেন কোন খালে পানি ছেকানি ছেউতি!
ড্যানিসের ফ্লেভারে মধু চাটা রসনা গাছের ডাল। অাদা,দুধ চা চিনি কম চিনি
বেশি চাওয়ার শব্দে জমজমাট হৈ চৈ মাছের বাজার
চা,পরাটা, পুরি সুজি ডাল অাহ্…
সাথে চলে দুপুরের ক্লান্তির চাপে পরা মানুষের পেটে ভাত ক্ষুধার হুমড়ি।
চায়ের কাপের চুমুক কেউবা অালতো চুমু কেউবা গড়গড় ঘড়ঘড় হুকা টানের বাহাদুরি ছিল্লক…
ধনকুবেরের টাকা ভাঙা অাকাশ ভাঙ্গা গরম।
কিপটের পকেট খামচানি দিয়ে টাকা বের করার ম্যারত ম্যারত ইস্ অাস্ গোঙানির স্থির শিকারী চোখে মুরগী ধরা মাংসাশী
হাপা গাড়োয়ার মুখ হতে মুরগী ফসকে যাওয়ার অাফসোসের লালা!
অাপ্যায়ন কর্মীরা দারুণ শ্বাশুড় পক্ষ সেজে জামাই অাদর করে ভোজন সেবা করে মধু বচন মুগ্ধতায়।
চা চু ভোজন বিলাসীরা গলায় ঢুকায় ইচ্ছে মতো।
খাওয়া শেষে তালিকার ফদ্দিটা দেখে দুচোখ কপালে তুলে এতো বিল!
জামাই ষষ্ঠী কেটে গেলে ক্ষণ!
ভোজন গাড়ির চাকার তলে হঠাৎ চা , অন্ন খাওয়া শেষ হলে টাকা খরচের বিশাল অংক দেখে মধু ভোজনী মুখে ভ্যাংচানি যেন কোন সতীনের দিকে সতীনের কুনজরে বাঁকা চাহনি…
চায়ের ঘরের চলে পুরোনো
বন্ধুর সাথে বিনে পয়সা গিলানো এক তোলা মুচকি হাসির টাকা ভাঙ্গার খুসকি হাসির অভিনব নাটকীয় কৌশল!
চায়ের বিল না দিয়ে চুপ চাপ বেরিয়ে যাওয়ার কৌশলটা ও অগোচরে ধরা পরে ঐ সিসি ক্যামেরার মুখস্থ চোখে। বিচার জরিমানা কিংবা অপমান কড়া চড়া কথা বসানো
পরবর্তীতে যেন না হয় হুশিয়ারির ভয়ংকর হুঙ্কার
ইস্ ব্যাচারা বোকা গাবুল।
।চা চুর ফাঁকে নেশা পানীয় চলে মাতাল সিগারেট ধোঁয়া অাসরে।
এখানে চলে বন্ধু সমাগমের অানন্দ সার্রগাম বানানো গপ্পোর মিলন রঙ্গ দুর্গা মেলা।
গপ্পো গুলো যেন চায়ের লিকরে দুধ চিনিতে ভেজা
রসালো টসটসে লোভনীয় দুধের সর।
এখানে চলে সেই কাল হতে বড় নাম্বারি টাকার নোট ভাঙানির গরমা গরম।
চলে অন্য গৃহ বধুর চলন বলন, গীবত চর্চা চলে স্বপ্ন রাণী প্রেয়সীর রূপ কিচ্ছা।
ও দিকে চা দোকানী মনের ভেতর বিরক্তিতে দুর হয়ে যাওয়ার বিড়বিড় ফিসফিসানি…
দোকানীর
মুখ উপরিতে করুণ গপ্পো পদধূলি দিয়ে অামার চা ঘর জমিয়ে দিন দক্ষ সিনে পরিচালকের সিনে পরিচালনার নয়নাভিরাম হৃদয় তোলপাড় করা পাঠ খন্ড!
চলে হরদর ড্রয়ারে টাকা গোছানোর তাল দোকানীর কি লাভ রে!
কি লাগবে, দেবো অারো, বস,স্যার,ভাই,দাদা মামা, ভাই পো,ছোট দা বড়দা। জামাই,বল্টু পল্টু,মফিজ, মুন্সি কি লাগবে সব গরম গরম খেয়ে মজা পাবেন।
দেই অার একটু কৈ শিং এর মসলা মাখা ঝোল!গরু,খাসি বিরিয়ানি। পুটি,ঢেলা,কাচকির চিংড়ির মুখরোচক তেলচুবানো মচমচালি ভাজি।
দেবো নাকি অার একটু
,রুই কাতলার নাভী,বুকের অংশ।
অাহ্ অাহ্ যেন চা ঘরটা শ্বশুর বাড়ি!
কত সব মিনিট দুয়েক পাঁচেক পরে চা ঘরটা মাতোয়ারা।
পাড়ার খবর শিরোনাম চা ফুকে মুখের ভাঁজে ভাঁজে
কার মেয়ে ছেলে নিয়ে পালিয়ে গেলো কার ছেলের ইনকাম অাশি নব্বই হাজার, লক্ষ বাজার…

কার ছেলে নষ্ট হলো মদ
গাঁজা, ইয়াবা,ফেনসিডিল,
পতিতা নারীর অাচলের গিটের অাটকে পরা জমাজমাট ছিঃ ছিঃ শিরোনামের দুগ্ধন্ধি খবর…
চলেও বেশ ফালতু গল্পে মাথা নষ্টের দম ছিটকে পরা লম্বা কাহিনি…

তবুও চা ঘরটা যেন কথন বিলানো, মহামিলনের টুকরো উচ্ছ্বসিত সদ্য উদ্ভাসিত খুশির সাময়িক অস্থায়ী অপার অানন্দের শেকড়হীন বিয়ে গেটের কলা গাছে রঙ্গিন শাড়িতে মোড়ানো দুলা শালী পক্ষের গেট প্রবেশের অানন্দের কেন্দ্রস্থল।
চা ঘরের অাড্ডা বাসন্তী পুস্প সৌরভ মাখা হাওয়ায় মতো মাতোয়ারা হিরন্ময়…