কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে শালিখার মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য

time vision 24

নাজমুল হক, শালিখা( মাগুরা) প্রতিনিধি : মাগুরা শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর, হরিশপুর, বয়রা, দরিশলই সহ কয়েকটি গ্রামের কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য। প্লাস্টিক আর এলুমিনিয়ামের ভিড়ে মাটির তৈরি তৈজসপত্র তেমন চাহিদা নেই বললেই চলে। তাই জীবন ও জীবিকার জন্য পেশা বদলাচ্ছে অনেকে। শালিখা উপজেলার দরিশলই গ্রামের পালপাড়ার বেশ কিছু পরিবার এখনো আঁকড়ে আছে এই শিল্পে। এই পেশা থেকে কোনরকম আয় করে পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। শালিখা উপজেলা সদর আড়পাড়া থেকে এক কিলোমিটার গেলেই দরিশলই পালপাড়া। শতাধিক পাল পরিবার বসবাস করে এখানে। এখানে পালেরা নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করে তৈজসপত্র,রয়েছে মাটির হাড়ি,সরা,কলস,ফুলের টব,দেবদেবীর মূর্তি সহ আরো অনেক কিছু। একসময় মাগুরা জেলার বাইরে ও এসকল মাটির তৈরী তৈজস পত্রের কদর ছিল অনেক। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এ শিল্প। পরিবর্তে স্থান দখল করেছে স্টেইনলেস স্টিল,প্লাস্টিক, এ্যালমুনিয়ামের তৈরি সরঞ্জাম। তাই স্বচ্ছলতা না থাকায় জীবন-জীবিকার তাগিদে আশা ছেড়ে দিচ্ছেন অনেকে। সরেজমিনে পাল পাড়ায় গেলে সুবাস পাল, অসীম পাল, গোবিন্দ পাল সহ আরো অনেকে জানান আগে মাটি ফ্রি পাওয়া যেত কিন্তু এখন মাটি কিনে নিতে হয়,তাই বেশি খরচ হয়ে যায় বলে বেশি লাভ হয় না বলে জানান। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও সরা বাসুন গড়ার কাজে সর্বক্ষণ সাহায্য করে। আয়ের অন্য কোন উৎস না পেয়ে জীবিকার তাগিদে অনেকেই পুরাতন এই পেশায় ধরে রেখেছে বলে জানান। কিন্তু কাচা মালের দাম বেশি বাড়ায় আয় কমে যাওয়াই সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে তারা। তাই এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারী সহযোগীতা প্রত্যাশা এসকল মৃৎশিল্পীদের। তবে নিত্য ব্যাবহারে জিনিষ পত্রের ব্যবহার কমলেও বেড়ছে পোড়ামাটির গৃহসজ্জার চাহিদা। সরকারের পৃষ্টপোষকতা পেলে আবারো হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে এমনটায় মনে করছেন শালিখা উপজেলার মৃৎশিল্পীরা।