মোংলায় স্বাস্থ্যকর্মী সহ ৩ জন করোনায় আক্রান্ত

ফিরোজ শাহ্, মোংলা : মোংলায় স্বাস্থ্যকর্মী সহ ৩জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুইজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র ও ইউনিয়নের কর্মরত স্বাস্থ্যকমর্ী এবং অন্যজন ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা বলে জানা গেছে। তবে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে মোংলা বন্দরসহ এর আশপাশ এলাকা এর আগে কোন আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নী। দেশে এ রোগ দেখা দেয়ার এই প্রথম বন্দর নগরী মোংলায় তিনজন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত করা হলো। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জীবিতেষ বিশ্বাস জানান, দেশে মরন ঘাতক করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে বেশ কিছু লোক ভর্তি হয় এবং নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্ত তাদের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হলে তাদের পরীক্ষায় নেগিটিভ আসে। তার পরে এ এলাকাটি দেশের আন্র্Íজাতিক সমুদ্র বন্দর। এখানে দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজে নাবিকরা অবাধে যাতায়াত করছে। এছাড়া বন্দরসহ শিল্প প্রতিষ্ঠানের দুরপাল্লার বিভিন্ন যান বাহন চলাচলে দেশের অন্যান্য আক্রান্ত এলাকা থেকে মানুষ অবাধে আসা যাওয়া করছে। তিনি আরো বলেন, পুর্বে থেকেই এখানকার প্রশাসনের কর্মকর্তারা কঠোর নজোরদারীর কারনে তেমন কোন সমস্যা হচ্ছিলনা। কিন্ত হঠাৎ করে দু’একদিনের মধ্যে ৩জনের নমুনায় পজেটিভ এসছে। এরা হচ্ছে, সোনাইলতলা ইউনিয়নের উলুবুনিয়া এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রভাইডার মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম (৩৫), সুন্দরবন ইউনিয়নের কচুবুনিয়া এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ সহকারী কামাল মৃধা (৪০) ও মোংলা পোর্ট পৌর শহরের ইসলামী ব্যাংক’র ক্যাশ অফিসার এস এম রিয়াজুল ইসলাম (৩৪) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এদিকে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের মোংলায় এই প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়াতে স্থানীয় বসবাসকারী ও ব্যাবসায়ীদের মাঝে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাথে সাথেই পুরো শহর জুড়ে কঠোর অবস্থানে স্থানীয় প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাহাত মান্নান বলেন, কিছুদিন থেকে এই তিনজন সহ আরো বেশ কয়েকজনের করোনা উপসর্গ দেখা দিলে গত ২১ জুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য কতর্ৃপক্ষ। এরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সেই নমুনা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর সেখান থেকে ২৪ জনুয়ারী বুধবার দুপুরে আসা রিপোর্টে এই তিনজনেরই করোনা পজেটিভ আসে। তবে এ তিনজনের শরীরে করোন পজেটিভ হলেও তারা স্বাস্থগত ভাবে সুস্থ আছে বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন। খুলনার মেডিকেল থেকে নমুনা পরিক্ষায় পজেটিভ রিপোর্ট আসার সাথে সাথে এই তিনজনকেই তাদের নিজ বাড়িতে অবস্থান করার পরামর্স দিয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তরা। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে করোনা ভাইরাস তাদের নমুনা পরিক্ষায় পজেটিভ হওয়ার খবর পেয়ে আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউনসহ তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের যে কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছে তাকে বাসায় থাকার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের ওই প্রতিষ্ঠানের অন্য কারও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত জানানোর জন্য বলা হয়েছে। ব্যাংক খোলার পর থেকে বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অন্য কারো করোনা ভাইরাস না ছড়ায় সে জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য বলা হয়েছে।