গল্পটা এখনো বলা হয়নি : জোবায়ের হোসেন

গল্পটা এখনো বলা হয়নি
জোবায়ের হোসেন

গল্পটা এখনো বলা হয়নি।
অনেক দিনের পুরনো একটি গল্প,
যে গল্পটির লেখা শুরু করেছিলাম যৌবনে প্রথম পা রেখে-
জীবনের চলতি পথে হঠাৎ একটি পলক দেখে,
যে গল্পটি শুরু হয়েছিল ভালবাসায় ঘেরা,
দুটি জীবন কে ঘিরে
সময়ের অভাবে তা আজো প্রকাশ পায়নি।
গল্পটা আজ অবধি ছাপা হয়নি দৈনিক কোন পত্রিকার পাতায়।
আমিতো লেখক নই- নই কোন নিদারুণ শব্দশৈলী গল্প লেখার কোন এক মহা কবি,
তবুও চেষ্টা করেছি লিখতে, মনের অব্যক্ত পংক্তিমালা,
আমি বুঝাতে চেয়েছি তাকে কতটা ভালবাসি!
সে যে ছিল আমার জীবনের কোমল প্রাণ,
দীপ্ত যৌবনে মধু আহরণের উড়ন্ত মৌমাছি।
অনেক আশার ফুল ফুটিয়ে,
গল্পটা লিখতে শুরু করেছিলাম,
প্রিয়জনকে উপহার দেবো বলে।
কয়েক দিন ধরে অবান্তিকার কোন খবর নেই, ফোনটাও বন্ধ করে রেখেছে,
এদিকে আমার মনটাও দিশেহারা।
যার জন্য গল্প লেখা তাকেই খুঁজে পাচ্ছিনা।
ভেবেছিলেম গল্পের শিরোনাম টা প্রথমে,
অবান্তিকাকে শুনাবো,
সেদিন রাত প্রায় আনুমানিক বারোটা,
আমি তখন খোলা আকাশের নিচে,
চন্দ্রের অস্পষ্ট আলোয় নির্জনে কোন বেঞ্চিতে বসে,
মাথায় তখন নানান রকম দুঃশ্চিন্তা,
মনটা কেবল ছটফট করছে।
হঠাৎ মুঠো ফোনটা বেজে উঠলো অচেনা নাম্বারে,
আমি তরিৎ গতিতে ফোনটা ধরেই সালাম দিয়ে জানতে চাইলাম,” কে আপনি?”
কোন সাড়া শব্দ পেলামনা।
আবার দ্বিতীয় বার প্রশ্ন করলাম, “কে আপনি?” কেনো ফোন করেছেন জানতে চাইলেম ,
তার পরেও কোন সাড়া শব্দ নেই।
এদিকে আমার পায়ের নিচ থেকে যেনো মাটি সরে যাচ্ছে,
পৃথিবীটা কেমন যেনো মনে হচ্ছে,
লাটিমের মত ভনভন করে আমার চার পাশে ঘুরতে শুরু করেছে,
মনে হচ্ছে চেনা মানুষটা অচেনার গাম্ভীর্যে ঢেকে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর ওপার থেকে আওয়াজ এলো,
“কেমন আছো?”
আমি কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেম,” ভালো আছি,
খুব ভালো, যেমন টা তুমি রেখেছ। তোমাকে ছাড়া যেমন থাকার কথা ছিল,
ঠিক তেমনি আছি।”
আমি পাগলের মত একের পর এক প্রশ্ন করতে লাগলাম,
কেমন আছ, কয়েক দিন হল তোমার কোন খবর নেই,
অসুস্থ ছিলে,
নাকি কোন সমস্যা হয়েছে, ইত্যাদি।
কিন্ত একটি প্রশ্নেরও উত্তর পেলামনা,
আবার বললেম, “অবান্তিকা, তোমার জন্য একটা গল্প লিখেছি শুনবে?”
ওপাশ থেকে কান্না জড়িত কন্ঠে বললো,
মানুষের সব ইচ্ছে পূরণ হয়না,
তাই আমার ইচ্ছেটা পূরণ হলনা।”
আবন্তিকার কান্নাজরিত কন্ঠে এমন কথা শুনতেই,
স্তব্ধ হয়ে গেলো আমার পৃথিবী,
আকাশ জুড়ে ঢেকে গেলো মেঘের কালো তমাল তমসা,
আমিও বোবাকালার মত স্তব্ধ হয়ে কথা গুলো শুনতে লাগলাম,
কিছুই বলতে পারলেমনা।
অবান্তিকা ওপাশ থেকে শেষ কথাটা ঠিক এভাবেই বল্লো,
“নাট্য মঞ্চে অভিনয় করার মত,
আমি নিয়তির কাছে আজ পরাজিত,
তাই হেরে গেলাম পৃথিবীর পটে, খুব বেশি সময় নেই হাতে,
হয়ত আর কখনো কথা হবেনা,
ভালো থেকো পারলে ক্ষমা করেদিও,”
এই বলেই ফোনটা কেটে দিলো।
আমি আবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম,
কিন্তু তা আর সম্ভব নয়,
নাম্বারটাও বন্ধ করে ফেলেছে ।
আর কখনো অবান্তিকার খোঁজ পেলামনা।
গল্পটি আর বলা হলনা,
বলা হলনা আর কতটা ভালবাসি তাকে।
চাঁদনী রাতে আকাশের সুন্দর তারাটা দেখে যেমন চোখের তৃষ্ণা মেটানো যায়,কখনো স্পর্শ করা যায়না।
অবান্তিকাও ঠিক তেমনি হয়ে এসেছিল,
খুব কাছে থেকেও ছুঁয়ে দেখা হলনা,
হলনা ভালবাসি কথাটা বলা,
গল্পটাও আর কখনই প্রকাশ পেলোনা।
মনের অব্যক্ত পংক্তিমালা,
চেনা মানুষকে আড়াল করে,
রয়েগেলো অচেনার গাম্ভীর্যে,
গল্পটা আর বলা হলনা।