সে দিন বিলে : কে এম মেহেদী হাসান

সে দিন বিলে
কে এম মেহেদী হাসান

আষাঢ়ের সামর্থের ঝরা ঝরছে,
একদিন ভরা দুপুরে।
ডানে বামে সামনে পিছন,
রাগী টানা রোদ!
হঠাৎ,
হাঠাৎ পচ্চিম আকাশে-
খন্ড খন্ড মেঘের আগমন।
দেখতে দেখতে মেঘ গুলো একাকার,
কালো মহিষের রূপে সেজে উঠলো!

বাবার এক হাতে লাল গরুর কাদা মাখা দড়ি,
অন্য হাতে আমাকে জাপ্টে ধরে বসে আছে।
চারিকে হু হু করে বাতাস বয়ছে,
বাবলার চিকণ পাতার ঢালে ঢালে!
মুক্তার মতো ঝরার দানা,
অঝরে পড়ছে আমার সারা অঙ্গে।

লাল গরুর ঝরাই ভেজা সর্ব শরীর
অবিরাম থিরথির করে-
বাতাসে দোলানো কলমি-ফুলের সাথে কাপছে।
বয়ে যাওয়া বাতাস যেন মেষবরণ কালো মেঘের অন্ধ বাহন!

বিলে ফুটে থাকা শাপলা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে,
নিষ্পাপ ফুলের পাপড়ি ঝরার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত।
সাদা বক মাছরাঙা পুঁটির লোভ ছেড়ে বসে আছে শিমুলের পেত্নীর ঢালে,
ভয়ে ভয়ে তবুও পরম আবেশে।

ঝরার বেগ সময়ে দ্বিগুণ থেকে দ্বিগুণ!
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বিলের জল পাউড়ীতে চুম্বন কেটে চলছে অবিরত,
এ-যেন বিলের রাক্ষসী রূপ প্রকাশে বার্তা।

ভরা দুপুর,
মহিষবরণ কালো মেঘের পেটে জিম্মি সূর্য।
চারিদিকে অন্ধকারের আবছা কালো কালো দেওয়াল-
লাল গরু বাড়ি থাকা বাছুরের মায়ায় দিশেহারা।
হনহনিয়ে এক-পায়ের ভিজে মেঠোপথে বাড়ির টানে ঘাড় নাড়িয়ে নাড়িয়ে হাটতে লাগলো।

বাবার ভুরু চোখের পাপড়ি জলে ভেজা,
বিন্দু বিন্দু জলো-ফোট আঁচড়ে পড়ছে ঠোঁটের কোনে৷
বাবা মাথায় শামার আঁটি বেঁধে-
কাদা পায়ে হাটতে লাগলো,
অন্য হাতে লাল গরুর সেই কাদা মাখা দড়ি ধরে।
আমি দৌড়াতে থাকলাম কাঁচি আর জলের ঘটি নিয়ে।

চারিদিকে ঝরার হাউমাউ আওয়াজ,
ভরা দুপুর যেন সন্ধ্যার রূপে সেজে উঠেছে।
হাঁটু সমান জল-কাদার পথে-
ফেরার আশায় আমার ছোট্ট রাজাপুর গাঁয়ে।

মাগুরা সদর উপজেলা
হাজরাপুর ইউনিয়ন