মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম

যশোর প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমের বিরুদ্ধে ঘূর্ণিঝড় আম্পান পূর্বক প্রস্তুতিমূলক সভায় উপস্থিত না হওয়া, বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নির্মাণে টালবাহানা, নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে খারাপ আচরণ, প্রভাব খাটিয়ে ছেলেকে দিয়ে ফাইলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এডিপির টাকায় সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল, ক্রীড়া সামগ্রী ও হুইল চেয়ার ক্রয়েও অসংগতির অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে (১৮ জুন) বৃহস্পতিবার উপজেলা মাসিক সভায় উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রেজুলেশন আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা মাসিক সভায় সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পান দুর্যোগ, করোনাভাইরাস রোধে করণীয়, বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নির্মাণ নিয়ে গত ২০ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের জরুরি মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে স্থানীয় এমপি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

নিয়মানুযায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান ওই সভায় সভাপতিত্ব করে থাকেন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমকে অবহিত করার পরও সভায় উপস্থিত হননি। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজি জলি আক্তার সভায় সভাপতিত্ব করেন।

দেশের এমন দুর্যোগ মুহূর্তে জরুরি সভায় উপজেলা চেয়ারম্যানের না থাকাটা রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়ার সামিল বলে সভায় উপস্থিত সদস্যরা উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য প্রদানসহ তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দেন। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সিদ্ধান্ত হয়। ২০ মে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তসমূহ ১৮ জুন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যান নাজমা খানমের উপস্থিতিতে উপজেলার ১৭ ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রও উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা চেয়ারম্যানের মত একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি গত ৪ এপ্রিল চাল আটকের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেফাঁস মন্তব্য করারও সমালোচনা করেন উপস্থিত সদস্যরা। গত ১৬ মার্চ উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে আসিফ খান অভির নেতৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিক আসবাবপত্র সরবরাহ সংক্রান্ত ফাইল স্বাক্ষর করতে ইউএনও’র অফিস কক্ষে আসেন। কিন্তু ফাইল অসম্পূর্ণ হওয়ায় স্বাক্ষর করতে রাজি না হলে ইউএনও, উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অপমানজনক কথা ও হুমকি দিয়ে চলে যান অভি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় উপজেলা হলরুমে এই সভা চলে। সভায় উপস্থিত ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বহীন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মাসিক সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিতে এ সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়েছে।