চন্দ্রাহত ভালোবাসা : রীতা ধর

চন্দ্রাহত ভালোবাসা
রীতা ধর

যদি বলো,আকাশে মেঘের গর্জনে এখনো শুনতে পাও হৃদয় ভাঙ্গার শব্দ
বেদনার গুঞ্জরনে চাঁদের গা থেকে ঝরে পড়ে দুঃখ জোছনা,
পেঁজা তুলোর মতো নরম কান্নায় এখনো বুক ভিজে তোমার হৃদয় ক্ষরণে।
তবে হয়তো এখনো আমাদের ভালোবাসা বাতাবি লেবুর ফুলের গায়ে ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়তে পারে শিশিরের মতো,
হংসমিথুন প্রণয়ে জলকেলির মত্ততায় উছল হতে পারে নদীর জল।
এতোকালের বেদনা দীর্ঘশ্বাস, আকাশে পুঞ্জিভূত মেঘ হতে বিশুদ্ধ ধোঁয়ার অবয়ে ছুঁয়ে যেতে পারে নির্জন বিকেল।
অতঃপর রাত্রি গভীর হলে,সেদিনের মতো অরণ্যের সুগভীর নাভিমূলে শয্যা পেতে তোমার মাতাল স্পর্শে সারা আকাশ আলোকিত হতে পারে নক্ষত্রের আলোয়।
আর আমি, সহজ সরল হাতে পূর্ণিমার মতো তোমার দিকে মেলে ধরি পদ্মের অবয়ব।
অক্ষত পুষ্পের তৃষিত সুখ তৃপ্ত হয় তোমার হৃদয়ের উষ্ণ ছোঁয়ার আকণ্ঠ পানে।
সেদিনের মতো তোমার তৃষাতুর চোখে ফাগুনের অতৃপ্ত রঙ, স্ফীত বুকের ভাঁজে ভাঁজে সমুদ্রের জোয়ার।
যদি বলো, এখনো নিশি নিঝুম রাতে বাগেশ্রীরাগ বেজে উঠে নিকুঞ্জের বনে,
এখনো আকাশের নীল ক্ষয়ে ক্ষয়ে প্রতি সকালে তোমার বাগানে ফোটায় একটি গোলাপ ; চন্দ্রাহত চন্দনার বুক চিরে নেমে আসে ভালোবাসা,
তবে হয়তো বুকের বাম অলিন্দে এখনো আমি বেঁচে আছি, শত জনমের তরে।
এক জনমে ভালোবেসে কেউ তৃপ্ত হয়না বলে…

চট্রগ্রাম, ঘাট ফরহাদবেগ