অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

মোংলায় সরকারী খাল খননে বাঁধা
ফিরোজ শাহ্, মোংলা : মোংলায় সরকারী রেকডিয় খাল উদ্ধার করতে গিয়ে বাধঁার মুখে ঠিকমত খনন করতে পারছেন না উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। রোববার থেকে উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের কামারডাঙ্গা সরকারী খাল খনন ও উদ্ধার অভিযান কাজ শুরু করলেও প্রভাবশালীদের অবৈধ স্থাপনার কারনে সঠিক ভাবে খনন কাজ করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কতর্ৃপক্ষ। খালের দু’পাড়ে অবৈধ দখলদাররা কাচাঁ-পাকা ভবন তৈরী করার ফলে সঠিকভাবে খনন কাজও বিঘ্নৃত হচ্ছে। স্থাপনা উচ্ছেদের নামে উপজেলা প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি দালাল চক্র লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড’র সমন্নয় নদী শাসনের কাজ করলেও মোংলায় তার কোন প্রভাব দেখা যায়নী। এ এলাকায় বেশ কয়েকটি সরকারের রেকডিয় খাল ও খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে আছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। উপজেলা প্রশাসন কিছু কিছু সময় নদী শাসন ও অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলেও তা দখলদার আর দালাল চক্রের কারনে স্থাবির হয়ে পরে। মোংলা ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলকে সচল রাখতে এর সংযোগ খাল পুনরুদ্ধার ও খনন কাজ রবিবার সকাল থেকে শুরু করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা কর্মকর্তারা। এ সময় নৌবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতার্ এবং নদী খনন কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারও উপস্থিত ছিলেন। দ্বিগরাজে মোংলা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের কামারডাঙ্গা এলাকায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি খনন কাজ শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। খালের কিছু অংশ খনন করতে পারলেও দ্বিগরাজ বাজার সংলগ্ন খালের দু’পাড়ে গড়ে উঠছে বেশ কিছু পাকা ভবন ও অসংখ্য কাচাঁ-পাকা স্থাপনা। আর এ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে বিরম্ভনায় পরতে হচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন কতর্ৃপক্ষকে। রোববার দুপুরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারী খালের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করলে অবৈধ দখলদারের তোপের মুখে কাজ কিছু সময়ের জন্য স্থাগিত করতে হয়। আর তখনই শুরু হয় দালাল চক্রের তৎপরতা। এখানে ভরাট হয়ে যাওয়ায় খালের দুইপাড়ের খাস জমি দখল করে বিলাশ বহুল বহুতল ভবন নিমার্ণ করেন জনৈক আব্বাস জোমাদ্দার, মোঃ শহীদসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীরা। এছাড়াও খালের দু’পাড়ে ছোট ছোট কাচাঁ-পাকা অসংখ্য ঘরবাড়ী নির্মান করে খাস জমি দখলে নিয়ে রাখছে তারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানায়, প্রতি বছরই এ খালের দু’পাড়ের স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলে আসছে কিন্ত কিভাবে সরকারী জমিতে অসৎ উপায় উবহুতল ভবন নির্মান করলো তা সবারই অজানা। যতবারই সরকারী জমি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছে তখনই দালাল চক্র কৌশলে মোটা অংকের টাকার বিনিময় অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান স্থাগিত করে দিয়েছে। আর এস সাথে জড়িত রয়েছে, বিলাশ বহুল ভবনের মালিক প্রভাবশালী জনৈক আব্বাস জোমাদ্দার ও উপজেলা ভুমি অফিসের জমির দালাল হসমত আলী। সরকারী জমিতে নির্মান করা বহুতল পাকা ভবন যাতে ভাঙ্গা না হয় এবং উচ্ছেদ অভিযান স্থাগিত হয় সেজন্য রোববার রাত থেকেই দেনদরবারও চালাচ্ছে হাসমতসহ এ চক্রটি। এর আগেও উচ্ছেদ অভিযান বন্ধও সরকারের জমি বন্ধবাস্ত দেয়ার নামে উপজেলা প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জমির দালাল হাসমত, এমন বহু অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র রায়।
পানি উন্নয়ণ বোর্ডের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খানঁ বলেন, কামারডাঙ্গা এলাকায় সরকারী খাল খননের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় এবং নৌ-বাহিনীর মাধ্যমে খনন কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের এ কাজের জন্য যে পরিমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন সেটা সঠিক সময় করা হবে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাম ব্যাবহার করে কেউ আর্থিক লেনদেন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নয়ন কুমার রাজ বংশি জানান, যতই বাধা আসুক, সরকারের নিদেশনা মোতাবেক নদী রক্ষা কার্যক্রম ও খালের দু’পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। খাস জমিতে ভবন নির্মান করে যারা দখল করে আছে তাদের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। খুব শিঘ্রই দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিয়ে তাদের কাচাঁ-পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে খাল দলখ মুক্ত করে সরকারের এ সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে।