শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুরে ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের ৮নং রামানন্দকাঠি ওয়ার্ড মেম্বর লিটন হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মসূচী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন শালিখা উপজেলার ৮নং রামানন্দকাঠি ওয়ার্ড ও হাসাইখোলা গ্রামে অনুসন্ধানকালে স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে এ অভিযোগ পাওয়া যায়। অথচ গ্রাম পর্যায়ে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ নেয়ার নিয়ম না থাকলেও একের পর এক লিটন মেম্বর সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার কারণে রীতিমতো এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন। ইতিমধ্যে ভূক্তভোগী অনেকে শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার চিন্তাভাবনাও করছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হাসাইখোলা গ্রামের মৃত হাশেম জোয়ার্দ্দারের পুত্র আমিনুর রহমানের নামে দুর্যোগ সহনীয় একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ হয়। স্থানীয় লিটন মেম্বর পিআইসির মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে উক্ত ঘরটি নির্মাণের দায়িত্ব পান।

কিন্তু এই ঘরটি নির্মাণের সময় লিটন মেম্বর সরকারি বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে দরিদ্র আমিনুর রহমানের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১২ বস্তা সিমেন্টের টাকা আদায় করেন। তাছাড়া সরকারি এঘরটি নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি।

ঘরের মূল বেইজে ৩ ইঞ্চির স্থলে মাত্র দেড় ইঞ্চি ঢালাই দেয়া হয়েছে। জানালায় ১২ মিলি রডের স্থলে ৮ মিলি রডের ব্যবহার এবং গাঁথুনীতে ১ কড়াই সিমেন্টের সাথে ৪ কড়াই বালি মিশ্রণের নিয়ম থাকলেও সেখানে ৮ কড়াই বালি মিশ্রণ করা হয়েছে।

কাজেই ঘরটি নির্মাণের ৩ মাসের মধ্যে মেঝেসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। অর্থাৎ আমিনুর রহমানের এঘরটি নির্মাণে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে স্থানীয় একজন ইঞ্জিনিয়ার এ মতামত ব্যক্ত করেছেন।

এছাড়া ঘরের সাথে বাথরুম তৈরী করা হলেও ময়লা ফেলার কুয়া ও রিং ¯øাব নির্মাণ না করেই লিটন মেম্বর তড়িঘড়ি করে শালিখা উপজেলা পিআইও অফিস থেকে সমুদয় বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন। এব্যাপারে শালিখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজিবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার উপজেলায় সর্বোচ্চ ভালো কাজ হয়েছে, কোথাও দুর্নীতি-অনিয়ম হয়নি, যা ইউএনও স্যার পর্যন্ত জানেন। এব্যাপারে শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আহমেদ বলেন, উক্ত ঘর নির্মাণে কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সাবেক খাটোর গ্রামের আকরাম আলী জানান, লিটন মেম্বর তাঁর বাড়িতে সৌর বিদ্যুৎ দেয়ার নাম করে ২ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে ১ বছর ধরে ঘোরাচ্ছেন। লিটন মেম্বরের নিজ বোন রেনু বেগমের বাড়ি পাশ^বর্তী বুনাগাতি ইউনিয়নে। অথচ তার বোনের নাম ঠিকানা জালিয়াতি করে লিটন মেম্বর ভিজিএফ কার্ডের চাল উত্তোলন করে চলেছেন।

মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে রামানন্দকাঠি গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের বাড়িতে ৫ জনের নামে ভিজিএফ, বিধবাসহ ৫টি কার্ড দিয়েছেন লিটন মেম্বর। যা তদন্ত করলে প্রমাণিত হবে। শুধু তাই নয়, বছর খানেক আগে পাশ^বর্তী শরুশুনা গ্রামের একটি গরু চুরি মামলায় পুলিশের হাতে আটক হয় লিটন মেম্বর এবং ৩ মাস জেলও খাটে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে শালিখা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এমন একজন জনপ্রতিনিধি’র কাছে ৮নং রামানন্দকাঠি ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ভূক্তভোগী এলাকাবাসী দুর্নীতিবাজ লিটন মেম্বরকে অপসারণের দাবিতে মাগুরা জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।