ঢাকার ৪৫ এলাকা করোনার ‘রেড জোন’

ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৪৫টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির গত শনিবারের সভায় এসব এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়।

এসব রেড জোনে মঙ্গলবার থেকে ধাপে ধাপে লকডাউন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, সব রেডজোনে একসঙ্গে লকডাউন না দিয়ে ধাপে ধাপে লকডাউন করা হবে।

রোববার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সারাদেশে যে অবস্থায় ছিল, ঠিক একই অবস্থা চলমান থাকবে। এখন আমরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভিত্তিতে জোনিং করেছি। অধিক সংক্রমিত এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে এসব স্থানে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, রেড জোনে সাধারণ ছুটি থাকবে। যাতে মানুষ বাইরে না যায়, ভেতরে না আসে। সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে নির্দেশনা দেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বেসরকারি অফিসের ছুটির বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা জারি করা হবে।

করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মোট ৪৫টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ১৭ এবং দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকা আছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১১টি এলাকা রেড জোনের মধ্যে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের বাইরে তিন জেলার মধ্যে গাজীপুরের সবক’টি উপজেলাকে রেড জোনের আওতার মধ্যে আনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সদর এবং পুরো সিটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটির যে ১৭ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হয়েছে সেগুলো হলো- মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, উত্তরা, রায়েরবাজার ও বসুন্ধরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির রেড জোন চিহ্নিত এলাকার মধ্যে আছে- যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, বাসাবো, শান্তিনগর, পরীবাগ, পল্টন, আজিমপুর, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলী, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড ও সেগুনবাগিচা।

এছাড়া চট্টগ্রাম সিটির ১০টি এলাকা রেড জোনের মধ্যে রাখা হয়েছে। এগুলো হলো, কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, বন্দরে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ডেপুটি পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সচিব ডা. জহিরুল করিম বলেন, গত ১১ জুন কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ১৪ দিনে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার ভেতরে ৬০ জন রোগীর থাকার ভিত্তিতে এই রেড জোন ঘোষণা করা হচ্ছে। এটা কেবল ঢাকা ও চট্টগ্রামের জন্য প্রযোজ্য। বাকি জেলাগুলোতে ১৪ দিনের ভেতরে ১ লাখ জনসংখ্যার ১০ জন থাকলে সেটাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকার মূলত জোনভিত্তিক লকডাউনের মাধ্যমে করোনা মোকাবিলার কৌশল গ্রহণ করেছে। সেই কৌশলে রেড জোন চিহ্নিত এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে এবং সাধারণ ছুটিও থাকবে সেখানে। গত ৩০ মে পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চলাচল ও গণপরিবহন চালুর নির্দেশনা দেয় সরকার। এখন ১৬ জুন থেকে নতুন নির্দেশনা মানতে হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্দিষ্ট এলাকা লকডাউন করবো। ১৪ থেকে ২১ দিন লকডাউন থাকবে। সেখানে খাবার পৌঁছানো, অন্য রোগী থাকলে তার সেবা প্রাপ্তির জন্য কমিটি এবং হেল্প লাইন থাকবে। এছাড়াও করোনার বার্তা পেতে মোবাইল ট্রেসিং ও মোবাইল অ্যাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লকডাউন এলাকায় সংক্রমক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করা হবে জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এ সংক্রান্ত রেজুলেশন পেয়েছি।

ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন, ১৭টি এলাকার বিষয়টি তিনি মন্ত্রণালয় মারফত জানতে পেরেছেন। তাকে অফিসিয়ালী এখনো জানানো হয়নি। তিনি বলেন, এখানে যেসব এলাকার কথা বলা হয়েছে সেগুলো সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। যেমন আগে বলা হয়েছিল রাজাবাজার। পরে দেখা গেল, শুধু পূর্ব রাজাবাজারকে লকডাউন করতে হবে। এখন কোনো এলাকা যদি রেড জোনের মধ্যে ফেলে তা লকডাউন করতে হয় তবে তাকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় দিতে হবে। কারণ তাদের প্রস্তুতির দরকার আছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর সিটির পূর্ব রাজাবাজের গত ৯ জুন রাত ১২টা থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তিনটি ওয়ার্ড, মাধবদীর বিরামপুর এলাকা ও পলাশের চরসুন্দর এলাকা এখন লকডাউন আছে।

shomoyeralo