না ফেরার দেশে চলে গেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিম

না ফেরার দেশে চলে গেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিম। আজ শনিবার সকালে শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ নাসিম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

ছেলে তানভীর শাকিল জয় এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গত ১ জুন জ্বর-কাশিসহ করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। রাতে করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় মোহাম্মদ নাসিমের ব্রেন স্টোক হয়। হাসপাতালের নিউরোসার্জন অধ্যাপক রাজিউল হকের নেতৃত্বে কয়েক ঘণ্টায় তার অস্ত্রোপচার সফল হয়। স্ট্রোকের পর থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেশন সাপোর্টে ছিলেন।

এর পর দুইবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট আসে। বিদেশ নেওয়ার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে পরিবার রাজি হয়নি।

নাসিমের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

মোহাম্মদ নাসিম মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন সারাজীবন। সিরাজগঞ্জের মানুষ তাকে নির্বাচিত করেছে পাঁচবার।

১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসিম। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১, ২০১৪, ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৮ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেলেও দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৪ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পন নাসিম। আর তৃতীয় মেয়াদে মন্ত্রিত্ব না পেলেও ছিলেন দলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। সামলেছেন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্রের দায়িত্ব।

নাসিমের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায়। বাবা এম মনসুর আলী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন। স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি।