চ্যানেল দূর্জয়ের ভান্ডারিয়া প্রতিনিধিকে কুপিয়ে জখম

পিরোজপুর প্রতিনিধি : ভান্ডারিয়ায় ২ আ’লীগের নেতাসহ মোট ৮ জনকে কুপিয়ে রগ কর্তন।

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় জমি বিরোধের জের ধরে আ’লীগ দুই নেতাসহ একই পরিবারের ৮ জনকে কুপিয়ে রগ কর্তন করেছে নাসির বাহিনী ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীরা।

গতোকাল ১০ জুন বুধবার দুপুর ২ টায় উপজেলার দক্ষিণ ভান্ডারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলো ভান্ডারিয়া পৌরসভা সাত নং ওয়ার্ডের আ’লীগের সিনিয়র সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল (৫৭), তার বড় ছেলে সবুজ (৩১), একমাত্র মেয়ে সোমা (৩৪), মেজো ছেলে মেহেদী(২৮) ও ছোট ছেলে ওমর(২৫), মেয়ে জামাই মামুন(৪৩), সবুজের স্ত্রী খাদিজা (২৩) এবং মামুনের ছেলে তুষার (১৮)।

এদের মধ্যে ত্যাগী আ’লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল, সবুজ, সোমা এবং খাদিজাকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

আহত মেহেদী জানান, দীর্ঘদিন ধরে শহিদুল ইসলাম বাবুলের জমি নিয়ে প্রতিবেশী হোসেন বেপারীর ছেলে সন্ত্রাসী নাসিরের সাথে বিরোধ চলে আসছে।
ওই জমি নিয়ে আদালতে বন্টন মামলা চলমান রয়েছে।

বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ নাসির উদ্দিন ও তার পরিবারের সহযোগীরা শহিদুল ইসলাম বাবুলের জমি জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

ভান্ডারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ স্কুল-ছাত্র বিষায়ক সম্পাদক ও যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এর ছোট ছেলে ওমর আল হাসান জানান, গত ২৪শে এপ্রিল দিবাগত রাতে স্থানীয় জাতীয় পার্টির(জেপি) ক্যাডার দুলাল সর্দার এর মদদে সন্ত্রাসী নাসির বাহিনী অর্ধশতাধিক ভারাটে মাস্তান এর সহায়তায় আমাদের জমিতে টিনের ঘর উঠাতে এলে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিফল হয়। ওই দিন রাতে আমাকে একা পেয়ে সন্ত্রাসী নাসির ছুরিকাঘাত করে। আহত ওমর আল হাসান অনলাইন নিউজ পোর্টাল চ্যানেল দুর্জয়ের ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক (২৮) জানান, প্রায় সময়ই সন্ত্রাসী নাসিরুদ্দিন ও তাদের সহযোগীরা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাবুল ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসী নাসির বাহিনী শুধু জমি দখলই নয় বরং ইয়াবা ব্যাবসার সাথেও জরিত। আর তার গডফাদার হলেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির(জেপি) ক্যাডার দুলাল সর্দার।

আহত মেহেদী আরো জানান, এ বিষয়টি আমার বাবা (বাবুল) ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভান্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব মিরাজুল ইসলাম মিরাজ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এর আগে তারা শক্তির দাপটে জমির সঠিক ম্যাপ ব্যবহার না করে ভুয়া জমির ম্যাপ দিয়ে জমি জবর দখল করার পায়তারা চালায়।

উল্লেখ্য যে, ওই একই দিনে (১০ই জুন) বুধবার বিকেলে জমি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সালিশ মিমাংসার কথা ছিল।

ও দিন ই দুপুরে সন্ত্রাসী নাসিরুদ্দিন, নীরু বেপারী, ছিরু বেপারী, সাইদুর, বাদশা, সাকিব, রমজান, নয়ন, জোসনা, নিপা সহ তাদের ২০/২৫ জন নারী-পুরুষ সহযোগী সন্ত্রাসীরা হত্যার চেষ্টায় বাবুলকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন।

তাকে বাঁচাতে ছেলে সবুজ, মেহেদী, ওমর, মেয়ে সোমা, মেয়ে জামাই মামুন, এবং তুষার ও খাদিজা আসলে তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন নাসির উদ্দিন সহ অন্যান্য সহযোগী সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

সেখানে আহতদের মধ্যে বাবুল, সবুজ, সোমা, খাদিজার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এদের মধ্যে বাবুল এবং সবুজের অবস্থা খুবই গুরুতর।

আহত বাবুলের হাতের তালুর ওপর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রগ কর্তন হয় এবং সবুজের মাথায় ধারালো আঘাতে মারাত্মক জখম রয়েছে।

অবস্থার অবনতি হলে যেকোনো সময় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন শেবাচিম হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভান্ডারিয়া থানার ওসি এস এম মকসুদুল রহমান জানান, উক্ত ঘটনায় ভান্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে।