“বাহাদুরদের ভীড়ে – অন্যের জন্য লড়াই করার জোর ” : কাজী বর্ণ উত্তম

"বাহাদুরদের ভীড়ে - অন্যের জন্য লড়াই করার জোর " কাজী বর্ণ উত্তম । টাইম ভিশন ২৪

“বাহাদুরদের ভীড়ে – অন্যের জন্য লড়াই করার জোর “
কাজী বর্ণ উত্তম

এখন যে যার নিজের কথা বলে, এটাই বলে আধুনিকতা
অন্যের কথা না ভাবা ই হল স্বাভাবিকতা
এ রকম চর্চা আজ রাজনীতিতে দেশে দেশে।
আদর্শবাদী রাজনীতির পতন
ব্যক্তি সত্তা ভিত্তিক রাজনীতির উত্থান
পাল্লা দিয়ে বিশ্বময় আত্মস্বার্থ-মগ্নতার প্রসারণ
সঙ্কীর্ণ হতে-থাকা চেতনা আর ব্যঞ্জনার সংক্রমণ
এই সবই বড্ড পাল্টে দিয়েছে আমাদের চারপাশটাকে।

দোর্দণ্ড প্রতাপে ধরাকে সরা জ্ঞান করাই আজ বাহাদুরি,
নিজের বিবেচনা ধ্যান-জ্ঞান যাদের সঙ্গে মিলে যায়,
তারাই আপন, নিজ গোষ্ঠীভুক্ত,তারাই দরকারি,
তারাই যোগ্যতর, ভালো থাকার অধিকার,
ভালো জোটার অধিকার কেবল তাদেরই।
তাতে সমাজ, সংসার, অন্য মানুষদের জীবন
রসাতলে গেলেও তারা থাকবে তোয়াক্কাহীন।

যোগ্যতা আজ আর বুদ্ধিমত্তা নয়
প্রিয় চর্চার বিষয় চালাকি।
জন্তু-জানোয়ারের বুদ্ধিমত্তায় বিস্মিত হই,
কিন্তু নিজ স্বার্থ বা গৌরব অর্জনের জন্যে
বুদ্ধিমত্তার চেয়ে চালাকির চর্চা শ্রেয়তর মনে করি।
পৃথিবী ময় বাহাদুরদের বাহাদুরি দেখানোর ছড়াছড়ি
তারা থামতে জানে না, যুক্তি মানে না, অন্ধের মতো,
স্বার্থপর, বেপরোয়া, নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না।
বিনয়ী গোত্রকে তারা সানন্দে ভাবে বোকা কিসিমের,
অচল ভাবে, ভাবে সময়ের অযোগ্য, তুচ্ছ জ্ঞান করে।
বড়ত্ব প্রমাণ করতে বিনয়ীদের কাঁধে পা তুলে দেয়।
প্রশ্ন জাগে, সৃষ্টি কর্তা কি জানতেন?
শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠার সব যোগ্যতা দান করলেও
সে পথে সব মানুষ পা বাড়াবে না।

বর্ণবিদ্বেষের ইতিহাস কয়েক শতাব্দীব্যাপী
যাকে বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদি পাপ
জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু ইতিমধ্যেই ইতিহাস
যে কাণ্ড হচ্ছে মার্কিন ভূখণ্ড জুড়ে
মার্কিনিরা এ রকম আগে দেখেনি
প্রতিবাদীদের স্রোত এতোটাই
বন্ধ করে দিতে হয়েছে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ
সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজ।
শিকাগোয় ইউনিয়ন পার্কে প্রতি দিন হাজারো মানুষ
লস এঞ্জেলসে প্রতিবাদীরা আটকে দিয়েছেন হলিউড
উত্তাল ওয়াশিংটন,হোয়াইট হাউসের চতুর্দিকে লোকারণ্য।

কোথা থেকে কী হয়ে যায় কিচ্ছু বলা যায় না।
কোন মুহূর্ত কেমন করে যুগান্তকারী,
ঐতিহাসিক হয়ে দাঁড়ায়, কেউ বলতে পারে না।
ভেবেছিলেন কি? ওই কালো ছেলের জন্যে
আমেরিকা’র এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত কেঁপে উঠবে।
অপশাসন, অর্থনৈতিক বৈষম্য ,অত্যাচারিত,
আত্মস্বার্থ-মগ্নতার প্রসারণ,সঙ্কীর্ণ হতে-থাকা চেতনা,
বিভক্ত সমাজের প্রেক্ষাপটে
হাজার হাজার সাদা-কালো জেল-জুলুম উপেক্ষা করে
আমেরিকার প্রতিবাদীদের ছবি
পৃথিবীময় একটা বিশ্বাস ফিরিয়ে আনলো
মানবতার ওপর বিশ্বাস।
মুক্তি আর অধিকারের যে ভাষা
সাগরে ডুবন্ত বলে মনে হচ্ছিল, তার প্রতি আশ্বাস।
এ কেবল নিজের অধিকারের কথা নয়
তার চেয়ে অনেক বড়, অনেক জরুরি কিছু
অন্যের জন্য লড়াই করার জোর
অধিকার ফেরানোর দাবি তোলার সাহস।।