অস্তিত্ব : রুম্পা রায়

অস্তিত্ব
রুম্পা রায়

ভীষণ সুখী হতে আমি কখনই চায়নি
আমি চেয়েছি তোমার কষ্টের বৃষ্টিতে শুদ্ধ হতে,
যে শুদ্ধতা পেতে আমাকে
আকাশ ছোঁয়ার বৃথা চেষ্টা
করতে হবে না।

আমি তোমার মাঝেই নিজেকে অবগাহন করিয়ে দেখতে চাই,
তোমার গভীরতা কতো দূর!!!

তোমার হাসিতে খুঁজে পেতে চাই
হাজারো ফুলের মলিনতার ঘ্রাণ,
যে ঘ্রাণ পবিত্র করে তুলবে
আমার প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গ।

আমি তোমার অবচেতন মনকে
নিজ দায়িত্বে লালন করে
তোমার দূরদর্শিতা হতে চাই।

আমি হতে চাই তোমার
কল্পনার মূল উদ্দেশ্য,
যে উদ্দেশ্যকে ঘিরে থাকবে
তোমার অগণিত স্বপ্নঃ।

আমি তোমার রাতের আকাশের
লক্ষ-কোটি তারার মাঝের
শ্রেষ্ঠ উজ্জ্বল তারকাটি হতে চাই,
যে প্রতি রাতে আলোকিত করবে
তোমার সকল বিষণ্ণময় ভাবনাকে।

তোমার একরাশ অভিমানের ভিড়ে
আমি খুঁজে পেতে চাই, ‘আমার আমিকে’,
যে আমির গুরুত্বটা আমার থেকেও
তোমার কাছে অনেক বেশি দামী।

তোমার নিত্য হেঁটে চলা রাস্তার
কোনো এক চেনা বস্তু হতে চাই,
যাকে হাজার বছর পরেও তোমার
চিরচেনা মনে হবে।

আমি আমার হৃদয়ের অন্তরালের
শেষ বিন্দুতে উপস্থিত নিষ্পাপ ছবিটার
প্রতিচ্ছবি হয়ে বাঁচতে চাই,
যে বেঁচে থাকা হার মানিয়ে দিবে
পৃথিবীর প্রতিটি জীবিত সত্তাকে।

তোমার ভালোবাসার শঙ্খচিল হয়ে সারাজীবন
তোমার আকাশে ডানা ঝাপটাতে চাই,
আর সে আকাশের প্রতিটি সাদা মেঘে
বিলীন করতে চাই নিজের ‘অস্তিত্ব’কে।

রুম্পা রায়
বাজুয়া,
খুলনা,বাংলাদেশ