বাঁশখালীতে গভীর রাতে অগ্নিকান্ডে ৬ বসত ঘর পুড়ে ছাই, ক্ষয়-ক্ষতি ১৫ লক্ষাধিক টাকা

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় গভীররাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৬ বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ইলশাগ্রামের পেতিন আলীর বাড়ীতে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারনা করা হচ্ছে।

৬ জুন শনিবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এ অগ্নিকান্ডে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, গবাদীপশুসহ প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে যায় বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সূত্রে জানা যায়। রাত সাড়ে ১২ টায় সুত্রপাত হওয়া অগ্নিকান্ড রাত ২ টা ৩০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের আপ্রান চেস্টায় নিয়ন্ত্রনে আসে।

স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারসূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সংঘটিত অগ্নিকান্ডে বাহারছড়া ইউনিয়নের পূর্ব ইলশা গ্রামে পেতিন আলী পাড়ার টিনসেটের বসত বাড়িতে আগুনের সুত্রপাত হয় এবং প্রায় ২ ঘন্টা ধরে জ্বলতে থাকা এ অগ্নিকান্ডে ৬টি বসতঘরের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো হচ্ছে, নুরুল হক, মনির আহমদ, মুহাম্মদ কায়সার, মুহাম্মদ নাছির, মুহাম্মদ দিদারুল আলম ও জয়নাল আহমদ। মনির আহমদের বসতঘরের বিদ্যুৎ শকটসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ মনির আহমদ জানান, গত দু’মাস আগে একটি গরু বিক্রির ৮০ হাজার নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার সহ ১লক্ষ টাকা দামের আরো একটি গরু পুড়ে সে নি:স্ব হয়ে যায়। করোনার এ সংকটকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে, এ প্রতিবেদন তৈরী করা পর্যন্ত কোনদিক থেকে কোন সাহায্য পায়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। গভীর রাতে সংঘটিত এ অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা হবে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িঘর পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে

বাঁশখালী ফায়ারসার্ভিসের ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা লিটন বৈষ্ণব জানান, ‘বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশাগ্রামে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছান। আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় আমাদের ফায়ার টিম। এতে ১৫ লক্ষাধিক পরিমাণ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।