প্রিয় মা : জোবায়ের হোসেন

প্রিয় মা
জোবায়ের হোসেন

মাগো তুমি কেমন আছ?
ভালো আছো তো মা?
নাকি বুকের মাঝে – এক পাহাড় কষ্ট লুকিয়ে,
নির্ঘুম কাটছে দিন,
নাকি রাতের আঁধারে কেঁদে চলেছো – নিভৃতে একান্ত নিরালায়?
মাগো- তুমি কেমন আছ?
খুব জানতে ইচ্ছে করে।
মাগো, আমি তো এখন অনেক দূরে,
তোমার ভালবাসার আঁচল ছেড়ে।
আচ্ছা মা-এখনো কি তোমার সেই ছোট্ট খোকাকে নিয়ে ভাবো?
এখনো কি থালা ভরা দুধ ভাত দিয়ে চৌকিতে বসিয়ে বলতে ইচ্ছা হয়, খোকা সবটাই খেয়ে উঠবি।
যখন না খাওয়ার বাহানাতে অনেক দুষ্টুমি করতাম,
যখন পড়ার টেবিল ছেড়ে অসময়ে ছুটে যেতাম খেলার মাঠে,
তখন তুমি রেগে মেগে একাকার,
রাতে আমার ঘুমের মধ্যে,
শরীরে কাঁথা জড়িয়ে গভীর মমতায় বলতে-
খোকা তুই কবে মানুষ হবি ? আমি তখনো আদর খেতে সমানে ঘুমের অভিনয় করে যেতাম।
কখনো তোমার ফিরে যাবার মুহূর্তে আঁচলে টান মেরে বলতাম , একটা গল্প বলনা মা,
তুমি আমাকে ভালোবাসার তোষকে মুড়িয়ে গল্প শুনাতে, ভিনদেশী পক্ষীরাজের রাক্ষুসের গল্প।
বহুদিন হল তোমার মুখের গল্প শুনা হয়না,
তবে এখন অনেক বড় হয়ে গেছি।
মাগো-এখন আমি তোমার হতে অনেক দূরের ভিনগাঁয় , খুব ইচ্ছা করে সেই ছোট বেলায় ফিরে যেতে ।
মাগো – আমি তো তখন অনেক ছোট ছিলাম,
দুষ্টুমিতে ভরা ছিল আমার জীবন,
আমার দুষ্টুমি দেখে যখন লাঠি তাড়া করতে,
তখন আমিও এক দৌড়ে ছুটে যেতাম,
তোমার দৃষ্টির সীমানা ছেড়ে,
আর তখন তুমি গলা চেঁচিয়ে বলতে,
আজ সন্ধ্যেবেলায় ঘরে এলে ঝাঁটাপেটা করবো, কিচ্ছু খেতে দিবোনা,
আসলে তুমি তখন মিথ্যে বলতে।
মা কি কখনো আদরের খোকাকে না খাইয়ে রাখতে পারে!
সন্ধ্যেবেলা যখন ঘরে ফিরতাম- তখন ঠিকই বুকে টেনে নিয়েছো,
আবার নিজের হাতে খুব আদর করেই খাইয়েও দিয়েছ।
মাগো, যখন রান্না ঘরে নিজের শরীর ঝলসিয়ে
খাবারের টেবিলে আসতে, মাছের মুড়োটা আমার পাতেই তুলে দিতে,
তখন কি তোমার একটু কষ্ট লাগেনি?
খুব জানতে ইচ্ছে করে।
মাগো আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, ভীষণ ভালোবাসি, অসম্ভব ভালোবাসি। আজ এই প্রবাসে তোমার সেই মায়ামাখা মুখ আমি বার বার দেখছি, ঘুমের মধ্যে দেখছি , ঘুমের বাইরে দেখছি । মাগো তুমি কেমন আছো ?