দেশ উন্নত হচ্ছে কিন্তু উন্নতির ছোঁয়া পাননি নাবিক সমাজ : মো: আব্দুল্লাহ

মো: আব্দুল্লাহ,আভ্যন্তরিন নৌযানে ১ম শ্রেনীর ইঞ্জিন চালক । টাইম ভিশন ২৪

টাইম ভিশন ২৪ : বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলাচলরত জাহাজ সমূহের নাবিকবৃন্দ সম্ভবত পৃথিবীর এক মাত্র প্রাণী। যারা এখনো হারিকেন শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন।

দেশ উন্নত হচ্ছে, অথচ দেশের ৮০% পণ্য পরিবহনকারী নৌ সেক্টরের নাবিকগণ গরমকালে কেবিনে প্রবেশ করতে পারেনা। বাহিরে মশা ভিতরে গরম, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে রাত্র ২/৩টা পর্যন্ত নাবিকগণ জাহাজের ডেকে ডেকে হাঁটতে হয়।

যেখানে বহির্বিশ্বে আভ্যন্তরিন একটি ছোট্ট জাহাজও শতভাগ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত থাকে। আর বাংলাদেশের ০৪হাজার মেট্রিকটন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি জাহাজেও এখনও হারিকেন মাঁজতে হয়! সরকার মহোদয় সার্ভের সত্বে অন্তত ফ্যানের ব্যবস্থা’তো করাতে পারে।

আমার জানামতে দেশে একজন ভিক্ষুকের ঘরেও বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা আছে। বলা যায়, দেশের ৯৯% মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকে। আর বাকি ০১% আমরা আজব প্রানী,
দিনেরাতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে রুমে গিয়ে গরমের জন্য ঠিক মত ঘুমাতে পারিনা।

ডিজি শিপিংকে অনুরোধ জানাবো জাহাজ সার্ভের অনান্য সত্বের সাথে এই একটা সত্ব যোগ করা হোক। অন্তত সোলার প্যানলে পদ্ধতির মাধ্যমে হলেও ছোট্ট একটা ডি সি ফ্যান যেন সবাই ব্যবহার করতে পারে।

নাবিকগণ বছরের ১২মাসই একেক সময় একেকটি প্রাকৃতিক দূর্যোগের মোকাবিলা করে এবং বছরের বিভিন্ন সময়ে ঝড় বন্যা খরা মাথায় নিয়ে দেশের ৮০ শতাংশ পণ্য এই নৌযান নাবিকগণ নৌ সেক্টরে নৌযান চালিয়ে এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে স্থানান্তরিত করে নৌ শিল্পকে গতিশীল রেখেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে, বৈশ্বিক মহামারির সময়ে পুরো দেশ যখন লকডাউনে তখনো কিন্তু নাবিকগণ থেমে নেই। যদিও করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামাদির অভাবোনুভব। যারা নিজেদের জীবনবাজী রেখে জুন জুলাই মাসের (কথিত হাবিয়া জাহান্নাম) বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙের সাথে সংগ্রাম করে কোম্পানির সম্পদ রক্ষা করে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে তাদেরকে সামান্য খরছে প্রত্যেক জাহাজে সৌর বিদ্যুৎ পদ্ধতি/ব্যবস্থা চালু করে দিন তাহলে নাবিকগণ একটু সস্থিতে ঘুমাতে পারে, আমরা আশাবাদী কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

মো: আব্দুল্লাহ
আভ্যন্তরিন নৌযানে ১ম শ্রেনীর ইঞ্জিন চালক
বসুরহাট, নোয়াখালী