মোংলায় ঘুর্নিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন

ভাঙ্গন কবলীত উকুলীয় এলাকার ভেড়িবাধ দ্রুত মেরামত করা হবে–জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ

ফিরোজ শাহ মোংলা থেকে : ঘুর্নিঝড় আম্পানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত উপকুলীয় এলাকার নদী সংলগ্ন ভেরীবাধ, বসতঘর, রাস্তাঘাট আর ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ঘেরের ক্ষয়ক্ষতি পুশিয়ে নেয়া ও মানুষদের পুর্নবাসনের আশ্বাস্ত করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদ। একই সাধে দ্রুত নদীর পারের ভেরীবাধ সংস্কারের কথাও বলেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে আম্পানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত উপকুলীয় এলাকার বাঙ্গন কবলীত কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। মোংলার কাইনমারী, কানাইনগর, চিলাসহ বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত ভেরীবাধ ভাঙ্গন পরিদর্শন করেন তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খানঁ, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফ হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাহাত মান্নান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০ মে রাতে প্রলংকারী ঘুর্নঝড় আম্পান আঘাতহানে মোংলা উপজেলার উপকুলীয় বেশ কয়েকটি এলাকার। এসময় গুড়িয়ে দেয় এখানকার অসহায় মানুষের বসত ঘর, রাস্তাঘাট, আর মৎস্য ঘের। ভাসিয়ে নিয়ে যায় নদী সংলগ্ন বসবাসকারীদের মাথার চালা ও ঘরে থাকা শেষ সম্ভলটুকু। একই সাথে নদী পারের ভেরীবাধ ভেঙ্গে তলীয়ে যায় বেশ কয়েকটি এলাকা। ঘুর্নিঝড়েরর ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটে জেলেসহ অসংখ্য মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী মোংলায় ঘুর্নিঝড় আম্পানের আঘাতে ১২৫টি বসত ঘর সম্পুর্ন বিদ্ধস্ত হয়। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৫২৫টি বসত ঘর। এছাড়া রাস্তা ভেঙ্গে যায় প্রায় ৬ কিলোমিটার, ১৫শ ৮৫টি মৎস্য ঘের তালিয়ে গিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয় মৎস্য চাষিদেও বলে জানায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
মোংলার নদী বাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন কালে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, ঘুর্নিঝড় আম্পানে যাদের ক্ষতি হয়েছে, তাদের পুর্নবাসন ও রাস্তাঘাট মেরামতের ব্যাবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশী নদী ভাঙ্গন রোধে উর্ধতন কতর্ৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবন্থা নেয়ারও আশ্বাস্ত করেন তিনি। এছাড়াও উপকুলীয় এলাকার মানুষ যাতে আম্পানের মতো ঘুর্নিঝড়ে যান মালের ক্ষতির মধ্যে পরতে না হয় সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাগেহোটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খঁান জানান, ঘুর্নিঝড় আম্পানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ভেড়িবাধ গুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডেও আওতায় নির্মান করা হয়নি। তার পরেও আমরা এলাকাটি ঘুরে দেখে গেলাম এবং টেকসই ভেড়িবাধ নিমার্ন করার জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তকে অভিহিত করবো । তবে তিনি আক্ষেপন করে বলেন, এই এলাকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় যে কাজ চলছে তা, বাস্থবায়নে বিভিন্ন বাধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে মোংলায় সরকারের উন্নয়ন মুলক কাজে বাধাগ্রস্থ হলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এলাকার জনগন।
গত ২০ মে ঘুর্নিঝড় আম্পানের আঘাতে মোংলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং প্রায় ১০ কিলোমিটার নদী সংলগ্ন এলাকার ভেড়ীবাধ ভেঙ্গে যায়।