ঝিকরগাছার স্বপ্নলোকের পাঠশালার শিক্ষার্থীরা ঈদে পোশাক পেল!

ঝিকরগাছার স্বপ্নলোকের পাঠশালার শিক্ষার্থীরা ঈদে পোশাক পেল! । টাইম ভিশন ২৪

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ : সুদুর পরিসর পরিকল্পনা না নিয়ে শুরু হয়েছিল স্বপ্নলোকের_পাঠশালা।
সমাজের পিছিয়ে পড়া, হতদরিদ্র, অসহায়, যাদের অনেকেরই মা-বাবা ফেলে রেখে অন্যত্র চলে গেছে। কারোর মা নেই, কারোর বাবা নেই। অভিভাবকদের মধ্যে অনেকেই অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে। ভ্যান চালক, বাস-ট্রাকের হেলপার, মিস্ত্রী। তাদের ঘরে ঠিকমত খাবার থাকে না, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্র ক্রয় করার জন্য হাতে নগদ অর্থ নেই। তারা একরকম অসহায়ত্বের জীবন-যাপন করে। এরকম পরিবারের শিশুরা পড়াশুনার স্বপ্ন দেখেনি কখন। পড়াশুনা না করে ঘুরাফেরা করতো। একটু চলার মত বড় হলেই স্বীকার করতে হত শিশুশ্রম।
স্বপ্নলোকের_পাঠশালা সে সকল শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌছে দিতে ২০১৭ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সম্প্রতি মহামারি কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) সংক্রমণে প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকগণ কর্মহীন হয়ে পড়ে এবং মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ ও শিশু খাদ্য বিতরণ করেছেন।
আজ শনিবার সকালে আমেরিকার গোফান্ডমি (gofundme) এবং সমাজের কয়েকজন দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এবারের ২৫জন শিক্ষার্থীদের ঈদ পোশাক, তাদের অভিভাবকদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রদান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সফিয়ার রহমান। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মেঘনা ইমদাদ এর সভাপতিত্বে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবিএম কামরুজ্জাম, উপজেলা সমবায় অফিসার, কালিয়া, নড়াইল, উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলেটেটর দুলাল পদ দেবনাথ, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইমদাদুল হক ইমদাদ, তরিকুল ইসলাম, সিও, ব্যানবেইস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, ঝিকরগাছা, সাংবাদিক মোঃ তরিকুল ইসলাম ও আফজাল হোসেন চাঁদসহ প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শিক্ষানুরাগী মেঘনা ইমদাদ স্নাকোত্তর (এম. এস. সি) শেষ করে চাকুরির চেষ্টা না করে নিজের সংসার খরচ বাঁচিয়ে এবং হস্তশিল্প ব্যাবসার মুনাফা দিয়ে তিনি যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসদরের অভ্যন্তরে কৃষ্ণনগরে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “স্বপ্নলোকের পাঠশালা” প্রতিষ্ঠা করেন এবং২০১৭ সালে ২২জন, ২০১৮ সালে ২৭ জন, ২০১৯ সালে ২৮ জন এবং এবছর ২৫ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বলেন সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই শূণ্য থেকে একাজটি শুরু করেছিলাম। অনেকেই উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।