আম্ফানের তান্ডবে যশোরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর :  অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যশোরে ব্যাপাক তান্ডব চালিয়েছে। এই
তান্ডবে যশোরে গাছ চাপা, ঘর ভেঙ্গে ও দেয়াল চাপায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে
১২ দাঁড়িয়েছে। বুধবার রাতে যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল
পরিমাণ গাছপালা ভেঙ্গে ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা
ঘটেছে। ঝড়ের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা ফোন নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হয়ে
পড়ায় হতাহতের তথ্য প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের কাছে দেরিতে এসে
পৌঁছা”েছ। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি
নিশ্চিত করে। শুক্রবার বাকী ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
সূত্র মতে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে গোটা জেলার বিভিন্ন এলাকা
থেকে বিপুল পরিমাণ গাছপালা, ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পাওয়া
গেছে। চৌগাছায় গাছচাপা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এরা
হলেন, চৌগাছা পৌরসভার হুদো চৌগাছা এলাকার ওয়াজেদ হোসেনের
স্ত্রী চায়না বেগম (৪৫) ও মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১৩)। ঝড়ে ঘরের ওপরে
গাছ ভেঙ্গে পড়লে এ দু’জন নিহত হন। আহত হন চায়না বেগমের ছেলে
আলামিন (২২)। ঝড়ের সময় তারা ঘরে ছিলেন। এছাড়া গাছচাপা পড়ে
শার্শা উপজেলার মালোপাড়ার সুশীল বিশ্বাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র
বিশ্বাস, গোগা পশ্চিমপাড়ার শাহজাহানের স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০) ও
বাগআঁচড়া জামতলা এলাকার আব্দুল গফুর পলাশের ছেলে মুক্তার আলী (৬৫)
এবং বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট বুদোপাড়া এলাকার সাত্তার মোল্লার
স্ত্রী ডলি খাতুন (৪৫) নিহত হয়েছেন।
আর বাঘারপাড়ার নিহত গৃহবধূ নামাজ পড়ার পর কোরআন তেলাওয়াত
করছিলেন। ঝড়ে একটি আমগাছের ডাল টিনের ঘরের চালার ওপর ভেঙ্গে
পড়লে ঘটনা¯’লেই তার মৃত্যু হয়। শার্শায় নিহতদের মধ্যে মুক্তার আলী ও
গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস নিজেদের ঘরের মধ্যেই গাছ ভেঙে পড়লে মারা যান।
আর ময়না খাতুন স্বামীর সাথে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাবার সময়
গাছ পড়ে মারা যান। তবে স্বামী বেঁচে যান। যশোরের জেলা প্রশাসক
মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এই ছয় জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন।
এদিকে পুলিশের বিশেষ শাখার রিপোর্ট অনুযায়ী মণিরামপুর উপজেলায়
আরও ৫ জন ও শার্শায় আরও একজনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে। তারা
হলেন, মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা গ্রামের খোকন দাস (৭০), তার

স্ত্রী বিজন দাস (৬০), একই এলাকার ওয়াজেদ আলী (৫০), তার ছেলে ইসা
(১৫) এবং আছিয়া বেগম (৭০)। এছাড়া শার্শা উপজেলার মহিপুড়া
গ্রামের মিজানুর রহমান (৬০) নামে আরও একজনের মৃত্যু সংবাদ
দিয়েছে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স অফিসার (ডিআইও-১) এম
মসিউর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে বৃহস্পতিবার
মণিরামপুরে মৃত্যুর তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে এখনো পৌঁছায়নি।
রাতে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আরিফ জানান,
মণিরামপুরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। এমনকি উপজেলা
নির্বাহী অফিসারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছেনা। শুক্রবার সকালে
যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক জানান, মণিরামপুর উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনা¯’লে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার মণিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ
শরিফী জানান, মণিরামপুরের মশ্মিমনগর ইউনিয়নে গাছ চাপা ও ঘর
ভেঙ্গে ৫ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার তিনি ঘটনা¯’লে গেছেন। আর
শার্শা উপজেলার মহিপুড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি
নিশ্চিত করে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল
জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তারা এই খবরটি পেয়েছেন। শুক্রবার বিষয়টি
নিশ্চিত হওয়া গেছে।