” পুণ্যেই মুক্তি ” : কাজী বর্ণ উত্তম

” পুণ্যেই মুক্তি “
কাজী বর্ণ উত্তম

হে সভ্যতা
সুযোগ দিয়েছো চিৎকার করার
চারিদিকে লাশের পর লাশ
দুর্যোগ সংক্রমণে লাখো মানুষ,
নিজ গৃহে বন্দী মানুষ
তারপরও জেলখানা থেকে মুক্ত মন।

হে লোভী মানবগোষ্ঠী
আলো হারিয়ে অন্ধকারের মিছিলে
বাছা পড়েছো যে ফাঁদে
তোমার সভ্যতা ভয়াবহ দ্বন্দ্বে,
স্বার্থবাদীদের খপ্পরে কল্যাণমূলক ভাবনা গুলো
চলছে খেলা বন্টনের নিক্তি নিয়ে
ফলাফল তো হতেই হবে হতাশাব্যঞ্জক।

বিজ্ঞানের ব্যবহার বন্ধুর মত না করে
করছো ধ্বংসের দামামা পিটানোর মতো।
অস্ত্র তৈরি হচ্ছে এমন ভাবে
ধ্বসে পড়বে যাতে সবকিছু
মুক্তি পাওয়া দুঃস্বপ্ন।
বিপদ উপস্থিত মানুষের কাছ থেকে
প্রকৃতির কাছ থেকে নয়
এ প্রশ্ন উত্থাপিত।

হে সভ্যতা
এমনটি তো হওয়ারই কথা ছিল
তুমি ধ্বংস করেছো সমাজতন্ত্র
তুমি ধ্বংস করেছো কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
তুমি ধ্বংস করেছো ধর্মের গুণাবলি।
তোমার স্বার্থে ভাগ হতে হয়েছে
ধর্মে বর্ণে জাতিতে জাতিতে,
কি করোনি তুমি
আরব বসন্তের নামে ভেসেছে শিশুর লাশ,
তেলের হিস্যা তোমার চাই
ধ্বংস হয়েছে হাজার বছরের স্থাপত্য
গৃহ হারা মানুষ ভাসছে পৃথিবী ময়।
তোমার লালসায় পুড়ে মরে
কাশ্মীর থেকে আফগানিস্তান
উইঘুর থেকে হংকং
ইয়েমেন থেকে সিরিয়া।

হে সভ্যতা
তোমার নারকীয় তাণ্ডবেই শরণার্থী শিবির
রাখাইন থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজার
দক্ষিন সুদান থেকে উগান্ডার বিডি
সোমালিয়ার থেকে কেনিয়ার দাবাব-কাকুমা,
তাঞ্জানিয়ার- নায়ারুগুসু, ফিলিস্তিনের- জাবালিয়া
জর্দানের-জাতারি, দক্ষিণ সুদানের- ইদা
ওয়েস্টার্ন ইথিওপিয়ার-পাগনিডো,পাকিস্তানের-পানিয়ান
শরণার্থী শিবিরে গৃহহীন মানুষের অভিশাপ
তুমি বহন করছো হে সভ্যতা।

হে সভ্যতা
দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি
মানব মননের আকাঙ্খা,
বিদ্যার্জন আর জ্ঞান যে এক নয়
পুণ্যই জ্ঞান, জ্ঞানই পুণ্য।
প্রয়োজন হচ্ছে সত্য জ্ঞান
যা শ্বাশত,
শক্তি সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ নয়
গুরুত্বপূর্ণ হলো পুণ্যের পথে শক্তিকে পরিচালিত করা।
অফুরন্ত সম্ভাবনাময় এই পৃথিবী
প্রয়োজন শুধু সমন্বয়ের
ধৈয্য প্রজ্ঞা পুণ্যের।।