যশোরের চাঁচড়ায় শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

যশোরের চাঁচড়ায় শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ । টাইম ভিশন ২৪

আব্দুল করিম রাজন : মহামারী করোনাভাইরাস যখন সারা বিশ্বে তখন বাংলাদেশেও তার থেকে পরিত্রাণ পায়নি। যার প্রভাব পড়ে দেশের গণপরিবহনসহ সকল ক্ষেত্রে। যার ফলশ্রুতিতে হতে থাকে একের পরে এক লকডাউন বন্ধ হয়ে যায় পরিবহন শ্রমিকদের জীবিকা। চোখে-মুখে হতাশার ছায়া পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে পার করছে দিন। এরকম অবস্থায় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে যশোর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং- খুলনা-৪৬২ এর পক্ষে সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান নেতৃত্বে স্থানীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর কর্মহীন মটর শ্রমীকদের জন্য ত্রাণের আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে যশোর পৌরসভার মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম রেন্টু চালাদার যশোর পৌরসভা এলাকায় ৩০০/৩৫০ জন শ্রমিক এর মধ্যে ত্রাণ প্রদান করে এবং পরবর্তীতে এর ধারাবাহিকতায় সরকারী ভাবে ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়নে ৩০০ জন শ্রমিকের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ হয় যা খুলনা-৪৬২ এর ৩০০ জন শ্রমিকদের মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল আজিজ বিশ্বাস ও খুলনা-৪৬২ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক মোঃ ওহিদুল ইসলাম, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ শামীম হোসেন এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের মঝে জনপ্রতি ৮ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। সঠিকভাবে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে কিনা চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন শ্রমিকরা সরকারের কাছে আবেদন করায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে ত্রাণ আসে আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রত্যেক শ্রমিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ৪৬২ এর অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকদের পরিচয় পত্রের ফটোকপি এবং টিপসের মাধ্যমে প্রত্যেক শ্রমিককে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। খুলনা-৪৬২ এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এর কাছে শ্রমিকদের এই দুঃসময়ে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা পাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন ইতিমধ্যেই আমরা একবার ত্রাণ দিয়েছি। আজ সরকারিভাবে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে কর্মহীন শ্রমিকদের সাহায্যের পরিকল্প আমাদের আছে এবং সাথে সাথে তিনি সরকার ও দেশের শীর্ষস্থানীয় সকলের প্রতি সকল শ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য আহবান করেন। এদিকে ত্রাণ নিতে আসা শ্রমিক জামাল, আশরাফুল, রবি, বাবু ও গফুর জানান আমরা দুই মাস যাবত কর্মহীন অবস্থায় বসে আছি। যতটুকু ত্রাণ পেয়েছি তা দিয়ে হয়তো চার পাঁচ দিন চলবে তারপরে আমরা কি খাবো কোন কাজ পাচ্ছি না যে করব। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই আমাদেরকে আরো সহযোগিতা করার জন্য।