মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ১৩শ৬৮

করোনা ও রোজা উপেক্ষা করে মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনের অভিযানে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় চৌদ্দশ অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। করোনাভাইরাসে কাজ না থাকায় একে তো চলছে কোনো রকম তার মধ্যে ইমিগ্রেশনের অভিযানে বৈধ ও কাগজপত্রবিহীন সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাজধানীর কুয়ালালামপুরের পাইকারি বাজার পাচার সেলাইয়াংয়ে স্থানীয় সময় সকাল পৌনে নয়টায় শুরু হয় অভিযান। কুয়ালালামপুর পুলিশের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেয় ইমিগ্রেশন বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের ১১শ’র বেশি বিশাল বাহিনী। এ সময় ৭ হাজার ৫৫১ জন
বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র চেকিং শেষে বৈধ নথিপত্র না থাকায় গ্রেফতার করা হয় ১ হাজার ৩৬৮ জন বিদেশি অভিবাসীদের।
মঙ্গলবার মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। আটককৃতরা হলোÑ বাংলাদেশের ৭৮ জন পুরুষ, ইন্দোনেশিয়ার ৪২১, ইন্ডিয়ার ৫৪, পাকিস্তানের ৬, মিয়ানমারের ৭৯০ জন এবং বাকিরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক। আটককৃতদের মাঝে পুরুষ রয়েছে ১০০৯ জন, নারী ২৬১ জন এবং তাদের সাথে থাকা ছেলেমেয়ে সন্তানসহ ৯৮ জন, সর্বমোট ১৩৬৮ জন গ্রেফতার। এ সময় ইমিগ্রেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আটককৃতদের কাছে কোনো বৈধ ভিসা বা বৈধতার কোনো প্রমাণাদি ছিল না এবং এদের প্রত্যেককে আদালতে সোপর্দ করে ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী শাস্তি শেষে যার যার দেশে কালো তালিকাভুক্ত করে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ । উল্লেখ্য, কোনো প্রবাসীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হলে ৫ বছরের ভিতরে মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকে। দেশটির সরকার বারবার সতর্ক করে আসছে এদেশে কেউ অবৈধভাবে বসবাস করতে পারবে না। অবৈধ অভিবাসীদের খুঁজে বের করে বিচার শেষে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। কিছুদিন আগে এক ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, তোমরা তোমাদের জীবন দিয়ে দৌড়াতে পারবে কিন্তু পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। এদিকে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের আটকের ব্যাপারে কোনো সংগঠন যেন বাড়াবাড়ি না করে সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন সরকারের সিনিয়র একজন মন্ত্রী।