যশোর শহরের কাঁচা বাজার ব্যবসায়ীরা হতাশ

আব্দুল করিম রাজন : মহামারী করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশ আতঙ্কিত যশোরে ও তার ব্যতিক্রম হয়নি চলতে থাকে একের পরে এক লকডাউন।যশোরের বড় বাজারে এলাকাতে থাকা মাছ বাজার ও রাস্তার দুই পাশে কাঁচা বাজারটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই বেচাকেনা করতে।অথচ প্রতিনিয়ত জনসমাগমের ভির বেড়েই চলছিল,এমনই ভয়ানক অবস্থা দেখে যশোরের জেলা প্রশাসক পৌর মেয়র ও প্রেসক্লাবের সভাপতি এর সমন্বয়ে গত ৩০/০৩/২০২০ ইং তারিখে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কাঁচা বাজার ও টাউন হল মাঠে মাছের বাজার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অস্থায়ীভাবে বসার নির্দেশ দেন।

তারপর কয়েকদিন ঠিক মতন বেচাকেনা চললেও এখন ব্যবসায়ীদের মনে শুধু হতাশা । তেমনি একজন ব্যবসায়ী জরিপ হোসেন বলেন বড় বাজারে তার রমরমা ব্যবসা ছিল । নতুন জায়গাতে তার প্রতিনিয়ত লোকসানের হিসাব গুনতে হচ্ছে , বড় বাজারে থাকতে পাইকারি আড়োত কাছে থাকায় সবজি কিনে সকাল ছয়টা থেকে সাতটার ভিতরে দোকান সাজিয়ে বসতে পারতাম ।এখানে আসার পরে পাইকারি আড়োত দূরে হাওয়াই দোকান সাজাতে আটটা নয়টা বেজে যাচ্ছে এ জন্য অনেক ক্রেতা যারা একটু সকালে বাজার করতে আসে ঠিক মতন বাজার বসতে না দেখে চলে যাচ্ছে অন্য দিকে।

এবং অন্য ব্যবসায়ী রাজ্জাক,আঁখি, সুশান্ত, মিন্টু বলেন গ্রাম থেকে আশা ব্যবসায়ীরা ভ্যানে,সাইকেলে চেপে তারা অনেক সকালে রেল বাজার,চুয়াডাঙ্গা বাস ইস্টান, তালতলার মোড়,বাসাবাড়িসহ আরো অন্যান্য জায়গাতে সবজি পৌঁছে দিচ্ছে সেজন্য অনেকেই ঐ দিক থেকে নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছে।অনেকেই ইচ্ছা থাকলে ও ইজিবাইক রিক্সা ভ্যান ঠিক মতন না চলাতে আসতে পারছেন না। প্রচন্ড রোদের ভিতর ঠিক সময় বিক্রি না করতে পারলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সবজি।মাঝে মাঝে তো ঝড় বৃষ্টি আছেই।শহরের আশেপাশে যে সমস্ত বাজার আছে সেগুলো সব এক জায়গায় থাকলে তাহলে আমাদের এই অবস্থা হতো না এভাবে যদি চলতে থাকে আমাদের সব ব্যবসায়ীদের ঋণী হয়ে যেতে হবে।

অন্য দিকে টাউন হল মাঠে অস্থায়ী ভাবে বসানো মাছ ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা। এমনই একজন মাছ ব্যবসায়ী মতিয়ার মিয়া বলেন বড় বাজারে থাকা অবস্থায় তাদের ব্যবসা সচল ছিল।বরফের অহরহ ব্যবস্থা থাকাই ভুগান্তিতে পড়তে হতো না । মুহুর্তেই বরফের ফ্যাক্টরি কাছে হওয়াতে বরফ সংগ্রহ করতে পারতাম। কিন্তু টাইন হল মাঠে দোকান বসানোতে বরফের
ফ্যাক্টরি দূরে হওয়ায় সংকটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীরা ।না‌ পারছে বেশি করে বরফ সংগ্রহ করে রাখতে না পারছে বারবার গিয়ে বরফ আনতে।আবার ঠিক মত বরফ না আনতে পারলে মাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এবং রাজু, নুর ইসলাম, সন্তোষ,রহমত তারাও বলেন যে দামে আমরা আড়ৎ থেকে মাছ কিনে নিয়ে আসছি তার থেকে কম দাম বললেও ঠিক মত বিক্রি হচ্ছে না বা কাস্টমারো পাওয়া যাচ্ছে না।বসে থাকতে হচ্ছে সারাদিন।

তারা আরো জানান মাছ বাজারে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রচন্ড রোদে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি যে সকল সমস্যায় আমরা আছি দ্রুত সমাধান চাই তা না হলে আমাদের পথে বসতে হবে ।

যশোরের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর মোশারফ হোসেন বাবু বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই দোকানগুলো বসিয়েছি এবং প্রতিনিয়ত আমরা নিজেরাই মনিটরিং করছি কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা খুবই খারাপ অবস্থা। তারা প্রতিনিয়তই আমাকে বলেন তাদের ব্যবসা মন্দা ক্রেতা না থাকায় এখানে বেঁচা কেনাও নাই।যায় ফলে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে সবজি। অনেকেই আবার দোকান বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনে তাদের ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। মীর মোশারফ হোসেন বাবু আরো জানান, এবিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে জেলা প্রসাশক মহদয়কে জানানো হয়েছে । তিনি ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে আগামী ১৬ তারিখে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন।