মিথ্যা অহমিকা : উত্তম কুমার

মিথ্যা অহমিকা , কবি উত্তম কুমার । টাইম ভিশন ২৪

মিথ্যা অহমিকা
উত্তম কুমার

হৃদয় ভাঙ্গার শব্দ যদি কর্ণকুহর শুনতে পেত
তাহলে শব্দ দূষণ আরও কতইনা বেড়ে যেত।
মন নিয়ে খেলা যদি ক্রাইম হতো,
প্রতিটি বাড়ির সামনে স্বপ্ন ভাঙার রোষানলে একটি করে জেলখানা থাকতো।
কিসের এতো রূপের অহমিকা তোমার,
কিসের এতো দাম্ভিকতা ভেবে কি দেখেছো কখনো এমন অমানবিকতা-!
চিতায় পুড়ে ছাঁই হবে লিখেছে সৃষ্টিকর্তা।
বিদ্রুপ প্রতিহিংসা যতোই করো তুমি,
মিথ্যা প্রাচুর্যের অহঙ্কারে গড়া গর্বের অট্টালিকায় বেলা অবেলায় কাঁদবে হৃদয় মর্মী।
হৃদ গগনে ওঠে যখন ভালবাসার বরি,
গদ্য পদ্য কাব্য লিখে বড় কত কবি।
মেরেছো তুমি কলসির কণা
তাই বলে কি প্রেম দিবোনা।
তোমার দীঘল চোখের কাজলের গভীরে দেখেছি আমার প্রেমের নিষ্পাপ মুত্যু অগণিতবার,
আমি অভাগা নিয়তির নিষ্ঠুর যুদ্ধে নীল সে ভাবনায় এ দেহ মন হয়েছে অসার
কেড়ে নিয়েছে মহাসমরে জয় করা বিজয় রথের মুকুট,তাই মিথ্যা অহমিকায় বালিশের কণায় কেঁদে কেঁদে চোখ ভিজালেও লিখি প্রেমের চিরকুট।

ভাগ্যদোষে বিলীন মৃত্যুকূপে সাঁঝের ছয়টি বসন্তের ঋতু।
বিলিন হয়েছে মনের সাঁকো হাঁটু জল পাড় হতে লাগে এখন সেতু।
ফাল্গুনের নব বসন্তে নতুন শাড়িতে চোখে দিয়েছো কাজলের টান
ধূসর বেলায় দুমড়ে-মুচড়ে পবন আনছে বান ।
জলস্ফীতির স্বচ্ছ স্রোতে পড়ে চমকে গেছে আহ্লাদী জীবন
দেহলতা ভাসাও তুমি জোয়ারের পরিষ্কার জলে আমায় করে মলিন ।
দু’চোখ দুটি সাগর-যেন
অন্তর জ্বলে আগ্নেয়গিরি
তোষামোদের ধুম্রজালে বৃন্দাবনের সংকীর্তণে নিঃস্ব করলে আমার হৃদয় ভূমি।

মিরপুর ১, ঢাকা-১২১৬