আহারে জীবন

জাহিদুল ইসলাম যাদু। টাইম ভিশন ২৪

আহারে জীবন
📝জাহিদুল ইসলাম যাদু
নাহ্ নাহ্ আমার কোনই সমস্যা হচ্ছে না,
জ্বি,হ্যাঁ নাস্তা করেছি তো! ঐ তো…
বাসি ভাতে মরিচ ডলে খেয়ে নিয়েছি।
নাহ্ কোন অসুবিধে নেই। শুকুর আলহামদুলিল্লাহ।

আসলে সরকারি চাকুরে না হয়েও বেঁচে আছি সেটাই বা কম কিসে! সরকার তো বলেই খালাস কর্মীদের বেতন ভাতা সচল থাকবে। বাবারে প্রাইভেট জব, সাধারণ ছুটি সারা দেশে যেই হলো চাউর অমনি বেতন বন্ধ! কেউই রাখেনি খবর, কার দায় পড়েছে বলুন তো! ঐ সাধারণ ছুটিই বিশেষত্ব দিয়েছে, দিয়েছে আয়েশী উপমা! শান্ত থাকার মন্ত্র মনে করিয়ে দিয়েছে “No work No pay” বাণী চিরন্তনী। ক্ষুধা লাগলে সান্ত্বনা খুঁজি গিলে ফেলি দু’গ্লাস বিশুদ্ধ পানি।

কোন ত্রাণ কার্ড পাইনি, কোন লাইনেও দাঁড়াতে দেয়নি আত্ম সম্মানবোধ! সঞ্চয় ঠেকেছে তলানীতে এখন আকাশের তারা গুণে সময় কাটাতে কাটাতেই রাত দিন গুলিয়ে ফেলছি। করোনা নামক মহামারী কেড়ে নিয়েছে কাজ,
ঘরের কোণে আটকে রেখে মাথায় পরিয়েছে আলস্যের তাজ।
কাল কি হবে? তা তো জানি নে!
আজই তো ত্রাহি ত্রাহি কলরব। অভাবের অলি গলি যে এতো অন্ধকারাচ্ছন্ন! কিছুই দৃষ্টি গোচর
হয় না, শুধু ঝাপসা দেখি চোখে। এটা নেই ওটা নেই শুনতে শুনতে কেমন বেবশ অনুভূতি।

আচ্ছা,এর সমাধান কোথায়? বেঁধে যদি মারা হয় মার সহ্য না করে কি আছে উপায়! হোমকোয়ারেন্টাইন, লকডাউন শব্দ গুলো দারুণ উপভোগ্য হয়ে উঠছে দিনকে দিন। প্রণোদনার ভাষ্য জিহ্বায় লালা ঝরিয়ে দিচ্ছে । তেলচোর, চালচোর অযথা বকবকের রসদ যোগাচ্ছে।
বেঁচে আছি আল্লাহর রহমতে আজ পর্যন্ত,
অন্ততঃ বেঁচে আছি। কাল যদি জেগে না উঠি…!

নাহ্ করোনা আমাকে মারতে পারবে না,
আমাকে মেরে ফেলবে নিম্ন মধ্যবিত্তের অসহায়ত্ব।
দু’মুঠো ভাতের অভাবই আমাকে ঠেলে দেবে মৃত্যুর মুখে। দোহায় আমাকে ক্ষমা করতে হবে না,
অহেতুক চোখের জল ঝরাতে হবে না। কোন
গুণকীর্তনও করতে হবে না
সততা কিম্বা সহ্য ক্ষমতার।

যারা বেঁচে থাকবে তাদের ভাতের ব্যবস্থা করবেন।
হোমকোয়ারেন্টাইন আর লকডাউনে দারুণ দারুণ
ছবি তুলে, টিভি পেপারে আশ্বাস দিয়ে নানাবিধ
জটজটিলতায় পেটের ক্ষিদে মেটে না।
নাগরিক সম্মানে এই দুর্দিনে বাস্তবে
ওদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েন।