যশোরে শ্রমিক নেতা গুলিবিদ্ধের ঘটনায় এলাকায় বহুমুখী সমালচনা

গুলিবিদ্ধ শ্রমিক নেতা মিন্টু গাজি ও অস্ত্রপাচারে বের হওয়া গুলি । টাইম ভিশন ২৪

স্টাফ রিপোর্টার : গতকাল যশোর শহরের বকচর হুসতলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারাত্বক আহত হয় শ্রমিক সংস্থা ২২৭ এর নেতা মো: মিন্টু গাজি । অন্যজন হলেন ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি শ্রমিক সংস্থার সদস্য মো: ইমাদুল ।
গুরুত্বর আহত মিন্টু গাজির অস্ত্র পাচার করা হয়েছে খুলনা মেডিকেলে । গুলিবিদ্ধের ঘটনায় এলাকায় চলছে নানা মুখি গুঞ্জন। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় ঘাপটি মেরে থাকা একটি পক্ষের ইন্দনে এই ঘটনার সৃস্টি। হুসতলা এলাকার সাইফুল, আসলাম, শিপন, লাভলু, আসলাম, সাহজামাল ও শংকরপুরের সিদ্দিকসহ ১০/১৫ জনের একটি দল প্রতিদিনের ন্যায় গত ১ তারিখে হুসতলা মাঠপাড়াররট্রেন লাইনের পাশে মেহগুনি বাগানে জুয়া খেলছিল। অপরপক্ষ হুসতলার নয়ন, এহেতেশামুল, অনিকসহ ১২ থেকে ১৫ জন জুয়ার আসরে হামলা চালিয়ে তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় । তখন সাইফুল ও আসলাম প্রতিবাদ করলে নয়ন, এহেতেশামুল, ও অনিকের হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করে। ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় বটু সরদার মিন্টু গাজি ও ইমাদুলের কাছে ঘটনাটি জানান আহত সাইফুল তারা বিষয়টি মিমাংশার কথা বলেন। এবং ওই মুহুর্তে মিন্টু গাজির মুঠোফোনে নয়ন ফোন করে দুই দিন সময় চেয়ে বলে ভাই ওদের মোবাইল ফেরত দেয়া হবে তবে তারা যেন মামলা না করে । এখান থেকেই মুলত ঘটনার সুত্রপাত। স্থানীয় সুত্র জানায়, প্রায় ৫ মাস আগে নয়ন অনিক ও এহেতেশাম ইয়াবা খেতে যেয়ে পুলিশের হাতে আটক হয় তারা মনে করেছে তাদের ধরিয়ে দিয়েছে মিন্টু গাজির ভাই সহিদুল ইসলাম (লাল্টু) তার কিছুদিন পরে তারা মিন্টু গাজির ভাই লাল্টকে মারধর করে এবং দেখে নেয়ার হুমকি দেয় । এদিকে গতকাল ছিনিয়ে নেয়া মোবাইল ফেরত চাওয়া নিয়ে হুসতলা কবরস্থানের সামনে দুই গ্রুপে বাকবিতন্ডা হয়। এবং সাইফুল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ এসে নয়নের মটরসাইকেল ছিস করেন এনিয়ে ইমাদুলের সাথে সাইফুলের মনমালিন্য হয় । এদিকে সাইফুলের ভাই লিটনের ঘনিষ্ট বন্ধু বিল্লাল ওরফে চামরা বিল্লাল যার ফলে ইমাদুল ও মিন্টু গাজির উপর ক্ষিপ্ত হয় বিল্লাল ।
অন্যদিকে মিন্টু গাজি ও ইমাদুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যার পরে স্থানীয় মৃত কুটি মিয়ার ছেলে ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সাইফল ও লাভলুর বাড়িতে তান্ডব চালায় সন্ত্রসীরা । এ বিষয় লাভলুর ভাই নজরুল ইসলাম পাটোয়ারি যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন । সে অভিযোগপত্রে বডি মিস্ত্রী সাহিন কবির ও ইমাদুলকে হুকুমের আসামী করে ৮ জনের নামে অভিযোগ উল্যেখ করা হয়েছে ।

উল্যেখ গতকাল যশোর শহরের বকচর হুশতলা এলাকায় পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধরা হলেন মিন্টু গাজী (৪০) ও ইমদাদুল (৫০)। আহতদের মধ্যে মিন্টু গাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হয় । আহত মিন্টু গাজী পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক ও ইমদাদুল সদস্য বলে জানা গেছে।

আহত ইমদাদুলের ভাই বদরুল সাংবাদিকদের জানান, বিকেল সোয়া চারটার দিকে ইমদাদুলও মিন্টু গাজী ইফতার কেনার জন্য হুশতলা মোড়ে যাচ্ছিল। তারা কপোতাক্ষ লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের পাশে এলে বিল্লাল নামে এক দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। গুলি ইমদাদুলের হাতে আঘাত করে মিন্টু গাজীর পেটে লাগে।

তিনি আরো জানান, জুয়া খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিল্লাল তাদেরকে গুলি করে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের ডাক্তার মুক্তামনি জানান, মিন্টুর পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। সেই কারণে তাকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে। আহত ইমদাদুল আশঙ্কামুক্ত।

এবিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: আজিজুল ইসলাম জানান, এই ঘটনাটি ঘটেছে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে । আজ বিকেলে বিল্লাল ওরফে চামরা বিল্লাল ও লিটন এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানতে পারি। জানাযায়, তিনদিন আগে মেহগুনি তলায় জুয়া খেলতে যায় বিল্লাল ও লিটন তখন ওদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় ইমাদুলের ভাইপো অনিক ও তার বন্ধু নয়ন । সেই সুত্র ধরেই আজকের এ ঘটনা ।

এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ওসি অপারেশন তাসনিম আহমেদ জানান, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।