পটুয়াখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সন্ত্রাসী হামলা!

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে পুলিশসহ ৫ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আহত করেছে। এ সময় কর্মকর্তাদের বহনকারী স্পিডবোড ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের পশরবুনিয়া গ্রাম সংলগ্ন বারবানবাদ চ্যানেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নদীতে টহলরত কোষ্টগার্ডের সহায়তায় হামলার নেতৃত্বকারী লিটন গাজী ও রানা হোসেনকে আটক করে পুলিশ। সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান ও হামলার ঘটনায় এ দুই জনসহ অজ্ঞাত ২৫-৩০ জনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভূমি অফিস সহকারী মো. জাফর।

এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত ৮ জনের প্রত্যেককে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক।

এ হামলার জড়িত থাকার অপরাধে বাল্ক হেডের মালিক লিটন গাজী (৩৮), তাঁর সহযোগী রানা মিয়া কে (৩৭) সরকারি কাজে বাধা এবং হামলার মামলা দায়ের করা গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে বালুউত্তোলনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়ায় তাদের আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, লিটন গাজী ও তাঁর সহযোগীরা রাবনাবাদ চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বহুদিন ধরে অবৈধভাবে বালু কাটছে। ওই চক্র বালু কেটে তা ৮টি বাল্কহেড বোঝাই করে লালুয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া জলকপাট এলাকায় আসে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সেখানে যাই এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৮ জন শ্রমিকসহ বাল্কহেডগুলো আটক করা হয়। আটক করা শ্রমিকদের কলাপাড়ায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে বাল্ক হেডের মালিক লিটন গাজীর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন সশস্ত্র শ্রমিক লাঠিসোটা নিয়ে তার সাথে থাকা পুলিশ সদস্য ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আটক শ্রমিকদের হামলাকারীরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় হামলাকারীরা বৃষ্টির মতো ইট-পাথরের টুকরো নিক্ষেপ করে এতে সরকারি স্পিড বোর্ডের গ্লাস ভেঙ্গে যায়।

তিনি আরো বলেন, বাল্ক হেডের মালিক লিটন গাজী একটি ট্রলারে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কোস্টগার্ডের সহায়তায় পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। লিটন গাজীর বাড়ি টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামে এবং তাঁর সহযোগী রানা মিয়ার বাড়ি পটুয়াখালীর জৈনকাঠি এলাকায়।

কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৮ শ্রমিককে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। এ ছাড়া ভূমি অফিস সহকারী জাফর বাদি হয়ে বাল্ক হেডের মালিক লিটন গাজী, তার সহযোগী রানা মিয়াসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২৫-৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা চলছে।