ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ দরকার শিল্প বাঁচাতে

এককভাবে উদ্যোক্তাদের পক্ষে এ ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব না : ড. আহসান এইচ মনসুর
ডিসেম্বর পর্যন্ত সুদ মওকুফ প্রয়োজন
করপোরেট ট্যাক্স কমানোর পরামর্শ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের
নারী উদ্যোক্তারা এক বছর সুদ মওকুফ চান
ছয় মাসের সুদ কর বিদ্যুৎ বিল ভাড়া মওকুফ চান ডিসিসিআই সভাপতি
পথে বসে যাবে ৫৪ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের মতো দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য একেবারে স্থবির করে দিয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশের ক্ষতির পরিমাণ তাদের মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশে এই ক্ষতির পরিমাণ যদি জিডিপির ৫ শতাংশও হয়, তাহলেও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি।

এই ক্ষতি ও অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবেলা করে দেশের শিল্প-কারখানা টিকিয়ে রাখতে চাইলে এবং অর্থনীতিকে আবার চাঙ্গা করতে হলে সরকারকে উদ্যোক্তাদের জন্য উদার হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পখাতের প্রায় সব কারখানার উৎপাদনও বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসএমই, কৃষি, গার্মেন্টস ও শিল্পখাতের ব্যবসা-বাণিজ্যের ধস ঠেকাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এই প্রণোদনা প্যাকেজ শিল্পখাতকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদরা।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সময়ের আলোকে বলেন, সার্বিকভাবে করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভার পড়েছে। কারণ পুরো দেশ দীর্ঘমেয়াদের ছুটিতে আছে। এতে করে উৎপাদন হচ্ছে না। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে হবে। এটা কে দেবে?

তা ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টাকা খাটছে, এই টাকার বিপরীতে সুদ উঠছে, এই সুদ তো কেউ মওকুফ করছে না। পরবর্তী সময়ে উদোক্তারা কীভাবে টাকা পরিশোধ করবেন? তাদের টার্নওভার থাকলেও ধীরে ধীরে বিনিয়োগের টাকা উঠে আসত। কিন্তু এখন কোনো টার্নওভার নেই। ফলে এর ঋণাত্মক প্রভাবটা খুব বড় হবে।

আর এটা এককভাবে উদ্যোক্তাদের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে রাতারাতি তারা ঋণখেলাপি হয়ে পড়বে। কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি আমাদের কাম্য হতে পারে না। তাই শিল্প বাঁচাতে উদ্যোক্তাদের লম্বা সময়ের জন্য ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ করা দরকার।

ইতোমধ্যে প্রায় সব ধরনের শিল্পঋণের কিস্তি ৩০ মে পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাৎ ৩০ মে’র পর বকেয়া কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। যা এই মুহূর্তে সাময়িক স্বস্তিকর হলেও এটা স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। এজন্য সরকারের এই পলিসির পাশাপাশি শিল্পখাতকে রক্ষায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ করার দাবি জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

সুদ মওকুফ করা হলে শিল্পখাতের বিপর্যয় ঠেকানো সহজ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এক্ষেত্রে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যবসায়ী, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নীতি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পোদ্যোক্তারা মনে করেন, শিল্পখাতকে রক্ষার জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ করলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি আসবে। তবে এক্ষেত্রে সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এজন্য সরকার চাইলে করপোরেট করও কমিয়ে দিতে পারে। আবার সুদ বাবদ কিছুটা ভর্তুকিও দিতে পারে। অর্থাৎ সুদের একটা অংশ সরকার নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিতে পারে।

বাকিটা ব্যাংকগুলো মওকুফ করতে পারে। এতে করে ব্যাংকগুলোর যেমন মুনাফা কমবে না, তেমনি কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটবে না শিল্প কিংবা ব্যাংকখাতে। একতরফাভাবে ব্যাংকঋণের সুদ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে করোনাপরবর্তী সময়ে হয়তো অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে জনবল কমিয়ে আনার কথা ভাববে।

অনেকেই হয়তো এই ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে টিকতেই পারবে না। আবার ব্যাংকগুলোর ব্যবসা ভালো না হলে তারাও জনবল কমিয়ে আনার কথা চিন্তা করতে পারে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব সেক্টরকে বাঁচাতে হলে একটি সমন্বিত পলিসি গ্রহণ করতে হবে। এর ফলে শিল্পোদ্যোক্তারাও বাঁচবেন আবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষও মুনাফা করতে পারবেন। একইভাবে কোনো শিল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো সিদ্ধান্ত থেকেও বিরত থাকবে। এতে সারা দেশের অর্থনীতিও সচল থাকবে বলে তারা মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের (ডিসিসিআই) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও একে খান অ্যান্ড কোম্পানির পরিচালক আবুল কাশেম খান বলেন, এখন এমন একটা পরিস্থিতি বিরাজ করছে যে, কেউই ভালো নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পোদ্যোক্তা, সাধারণ মানুষ সবাই সঙ্কটে রয়েছেন। তবে শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা চরম উদ্বিগ্নতায় দিন কাটাচ্ছেন।

একদিকে জনজীবন বিপর্যস্ত, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। কিন্তু ব্যাংকঋণের সুদ তো আর থেমে নেই। কিস্তি স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু সেটা তো পরবর্তী সময়ে দিতেই হবে। ফলে এটা সাময়িক স্বস্তিদায়ক হলেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান নয়।

এক্ষেত্রে সরকার চাইলে একটা সমন্বিত পলিসি নিয়ে সুদ বাবদ কিছু ভর্তুকি দিতে পারে। তাহলে শিল্প মালিকদের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমে আসবে। আবার একটা এসআরও জারি করে করপোরেট ট্যাক্সও কমিয়ে দিতে পারে। চাইলে ব্যাংকের সুদ বাবদ ভর্তুকিও দিতে পারে।

পৃথিবীর অনেক দেশে কিন্তু পরিস্থিতি সামলাতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেননা ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে হলে সরকার ঘোষিত প্রণোদনার বিকল্প কিছুও ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকঋণের পুরো সুদ মওকুফ করা হলে ব্যাংকের ব্যবসার মুনাফা কমে যাবে। কেননা ব্যাংক চালানোও তো এক ধরনের ব্যবসা। তাদের তো আমানতের সুদ দিতে হয়। কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতে হয়। ফলে এখানে সরকার চাইলে ভর্তুকি দিয়ে সহায়তা দিতে পারে।

এদিকে করোনার প্রভাবে ইতোমধ্যেই দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের গতি কমে গেছে। গত ফেব্রæয়ারিতে এ খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত আট মাস ধরেই টানা কমছে এ খাতের ঋণ। করোনা ভাইরাস সংক্রমণে রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ বৃদ্ধি ও আগামী এপ্রিল থেকে এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরের প্রভাবে চলতি মার্চে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি আরও কমবে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশ ব্যাংক শিল্প খাতের ঋণের তথ্য ওয়েবসাইটে আর হালনাগাদ করেনি। চলতি এপ্রিলে এই প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক পর্যায়ে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অথচ করোনার কারণে এটা এখন নেতিবাচক পর্যায়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু অর্থবছরের গত আট মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে অবস্থান করছে। চলতি জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছর নভেম্বরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর ফেব্রæয়ারি-২০২০ শেষে এটা নেমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে।

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ বলেন, প্রত্যেকটি খাতেই বিপর্যয় নেমে এসেছে। তবে শিল্প খাতের সঙ্কটটা হয়তো দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে। খাদ্য ও পরিবহন খাতও সঙ্কটে পড়েছে। খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকঋণের সুদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মওকুফ হওয়া দরকার। অন্যথায় ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, যেকোনো সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারকে নীতিগত সহায়তা দিতে হয়। আবার আর্থিক প্রণোদনারও প্রয়োজন পড়ে। এবারের যে সঙ্কট এটা একটা মহামারী। বৈশ্বিক সমস্যা। এটা সব খাতকেই বিপর্যস্ত করেছে। সারা বিশ্বই বিপর্যস্ত। ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের উচিত হবে পলিসি সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায় কি না, সেটা ভেবে দেখা। তবে সুদ মওকুফের বিষয়টা বেশ জটিল। এটার সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবসাও জড়িত। তবে করপোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনতে পারে সরকার। চাইলে এর পাশাপাশি সুদ বাবদ ভর্তুকিও দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

নারী উদ্যোক্তারা এক বছর সুদ মওকুফ চান
এদিকে করোনাভাইরাসের সঙ্কটে বিপর্যস্ত কয়েক লাখ নারী উদ্যোক্তাকে বাঁচাতে কমপক্ষে এক বছরের জন্য ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ করার দাবি জানিয়েছেন উইমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ওয়েব সভাপতি নাসরিন আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপদে অতি ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা ত্রাণও পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশের নারী উদ্যোক্তারা সহায়তা না পেলে বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনায় সব ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তার অধিকার আছে। কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয় এখনও নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলো নিয়ে কোনো বৈঠক করেনি। সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তার প্রাপ্তি সব নারী উদ্যোক্তার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। নারী উদ্যোক্তারা এখন সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন।

নারী উদ্যোক্তাদের এই নেতা বলেন, সারা বছর নারী উদ্যোক্তারা বসে থাকেন বৈশাখ ও দুটো ঈদের জন্য। এই ঈদ ঘিরে নারী উদ্যোক্তারা তাদের নিপুণ হাতে শৈল্পিকতার ছোঁয়ায় পণ্য তৈরি করেন। মাঝারি নারী উদ্যোক্তারা ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে পণ্য তৈরি করেন। শুধু পণ্য নয়, সেবা খাতেও অনেক নারী উদ্যোক্তা ব্যাপক পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন বিপাকে আছেন। এবার বৈশাখ ও ঈদ কেন্দ্র করে তৈরি নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য পড়ে থাকবে। আটকে যাবে তাদের পুঁজিও। ফলে নারী উদ্যোক্তারা পুঁজির অভাবে আগামীতে কিছুই করতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতি সরকার ও ব্যাংকগুলোকে সহানুভ‚তির সঙ্গে দেখতে হবে।

ছয় মাসের সুদ কর বিদ্যুৎ বিল ভাড়া মওকুফ চান ডিসিসিআই সভাপতি
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শামস্ মাহমুদ বলেছেন, করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে কমপক্ষে ছয় মাসের ব্যাংকঋণের সুদ, কর, বিদ্যুৎ বিল, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলোর দোকান ভাড়া মওকুফ করা দরকার।

তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে চায় না। তাই রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সরকার ঘোষিত প্রণোদনার টাকা প্রকৃত ক্ষুদ্র, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রদান করা হোক।

তিনি বলেন, বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে করপোরেট কর হিসেবে পাওয়া অর্থ দিয়ে ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সহায়তা করতে পারে সরকার। বড় ব্যবসায়ীদের মতো সব খুচরা ব্যবসায়ীকেও ভ্যাট রিবেট দেওয়া হোক। অগ্রিম কর মওকুফ করা হোক।

পথে বসে যাবেন ৫৪ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত সারা দেশের ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১৬টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবেন।

তিনি বলেন, এই ব্যবসায়ীরা বাঁচবেন না। তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাবেন না। কারণ প্রণোদনার শর্তে বলা হয়েছে- ব্যাংকে যাদের ঋণ আছে, তারা সেই ঋণের ৩০ শতাংশ পাবেন। কিন্তু ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের পছন্দ না করলে ঋণ দেবে না। ব্যাংকগুলো সবসময় বড় ব্যবসায়ীদের পছন্দ করে। তাদের শত শত কোটি টাকা দিলেও খুচরা ব্যবসায়ীদের কয়েক লাখ টাকা দিতে আগ্রহী নয়। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দেবে না ব্যাংক।