যশোর সদরে গোপনে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন

কোর্ট আর বোর্ড ছাড়া কিছু করার নাই : উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা 
জি.এম অভি,যশোর অফিস: যশোর সদর উপজেলার  কল্যাণদাহ-গোয়ালদাহ বাজার দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। 
তথ্য গোপন করে অবৈধ পন্থায় গঠিত ম্যানেজিং কমিটি  বাতিল চেয়ে দাতা সদস্যসহ প্রায় ৩০ জন অভিভাবক এ কমিটির  সকল কার্যক্রম স্থগিত আদেশ চেয়ে যশোরের বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানিয়েছেন।
জানা যায়, সম্প্রতি বিদারুল কাদির স্বপনকে  সভাপতি করে কল্যাণদাহ-গোয়ালদাহ বাজার দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মানুযায়ী কমিটি গঠনের আগে বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড, স্থান, হাটবাজারসহ জনবহুল স্থানে লিখিত তফশিল টাঙিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তা করেনি। এছাড়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না করা, মনোনয়নপত্র বিতরণসহ কমিটি গঠনের পুরো কাজ গোপন রাখা হয়েছে।
তফশিল প্রকাশ না করে  পছন্দের লোকজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত দেখিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়। তবে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম  অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যা হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। কমিটি কত তারিখে হয়েছে?  জানতে চাইলে তিনি জানান, তারিখ আমার মনে নাই কাগজপত্র দেখে বলতে হবে। আনুমানিক ৪/৫ মাস হতে পারে। সমালোচিত সভাপতি বিদারুল কাদির স্বপন বলেন,সবকিছু ঠিকঠাক হলেও একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। এদিকে মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ। সাবেক সুপার মৃত্যুর পরে আনোয়ারুল ইসলাম বর্তমানে সুপার হিসেবে কর্মরত।
এ বিষয় ও স্থানীয়দের রয়েছে বিরুপ মন্তব্য। আনোয়ারুল ইসলাম সুপার হিসেবে দ্বায়ীত্ব গ্রহনের পর থেকে মাদ্রাসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি সঠিকভাবে মাদ্রাসা পরিচালনায় ব্যার্থ বলে স্থানীয় সুত্র জানায়।  স্থানীয় জুয়েল বিশ্বাস,সাজু হোসেন ও মোতালেব হোসেনসহ অনেকেই জানায়, আমরা অভিভাবক এবং মাদ্রাসার পাশেই আমাদের বাড়ি কিন্তু মাদ্রাসার কমিটি কবে কখন হলো জানতে পারিনি।
শুনেছি এ মাদ্রাসায় ১৪/১৫ টা নিয়োগ আছে। নিয়োগের সময় অর্থ বাণিজ্য করার জন্যই তারা রাতের আধারে কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটি গঠনে বেশি কারসাজি করেছেন মাদ্রাসার সুপার আনোয়ারুল ইসলাম। এঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য ও মাদ্রাসার দাতা সদস্য ইয়াছিন বিশ্বাস বাদি হয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন  দপ্তরে লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ অভিযোগ পত্রে ৩০ জন অভিাবকের স্বাক্ষর রয়েছে। উভিযোগপত্রে বলা হয়,
 বাংলাদেশ গেজেট মোতাবেক মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের প্রজ্ঞাপন অনুসারে ইয়াসিন বিশ্বাস এককালীন দাতা সদস্য হিসাবে ২০১৮ সালে ২০ হাজার টাকা দান করে।  কোভিট-১৯ এর কারণে নিয়মিত কমিটি গঠন হয়নি। এডহক কমিটি দ্বারা পরিচালনা অবস্থায় প্রতিষ্ঠান প্রধান
মৃত্যুবরণ করায় কল্যাণদাহ-গোয়ালদাহ বাজার দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার (ভারপ্রাপ্ত) তিনি
সুপার হওয়ার জন্য এবং অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য করার জন্য দূর্নীতি/অর্থ বাণিজ্য করার লক্ষ্যে
ইয়াসিনকে  দাতা সদস্য হিসাবে কমিটিতে রাখেনি এবং কমিটি সব তথ্য গোপন করে অভিভাবকদের না জানিয়ে তথ্য গোপন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে  যাহা নিয়মনীতির পরিপন্থি।দাখিল স্তরের নবম শ্রেণির শিক্ষীদের অভিভাবকগণের মধ্য হতে ভোটে নির্বাচিত তিনজন এবং এবতেদায়ী স্তরের ১ম ও ৪র্থ শ্রেণির অভিভাবকদের মধ্য হতে সকল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণের ভোটে একজন সর্বমোট চার জন সদস্য ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও অভিভাকগণ
ভোট বা ভোটার তালিকা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।  কমিটির খসড়া ভোটার তালিকা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়ে শোনাননি এবং উহা নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেননি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ ভোটার তালিকা/তফসিল ঘোষণা/ভোট গ্রহণের তারিখ সম্পর্কে এমনকি এলাকাবাসী কেহই জানেন না, যা অতি সংগোপনে সকল কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে । সকল শিক্ষকদের মধ্য হতে দুইজন শিক্ষক ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও তাহা লঙ্ঘিত হয়েছে। এবতেদায়ী দাখিল মহিলা শিক্ষকগণের মধ্য হতে পুরুষ মহিলা নির্বিশেষে সকল শিক্ষকের ভোটে একজন সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক সদস্যা ভোটে নির্বাচিত করা হয়নি।ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণের অন্তত ৩০ দিন পূর্বে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও তা  করা হয়নি।  জানতে চাইলে যশোর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম  বলেন,আমি যশোরে যোগদানের আগের ঘটনা ওই সময়ে আমি কেশবপুরে ছিলাম এছাড়া কমিটি পাশ হয়েগেছে আমাদের কিছু করার নাই। একর্মকর্তা আরও বলেন,এখন কিছু করতে গেলে সেটা কোর্ট আর বোর্ড কর্তৃপক্ষ কিছু করতে পারেন।