যবিপ্রবি প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা

যশোর প্রতিনিধি: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবির) নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মানহানীর মামলা করেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জিনোম সেন্টারের সহোযোগি পরিচালক ও বিবেক সেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা ড.ইকবাল কবির জাহিদ।

এর আগে যবিপ্রবির গ্যালারির সাউন্ড সিস্টেমের কাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম চিহ্নিত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ড.ইকবাল কবির জাহিদ। এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে যবিপ্রবির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান ড.ইকবাল কবির জাহিদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৮ জুন যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
আরও সংবাদ > >বেনাপোলে আমদানিকৃত পণ্যে মিলল ফেনসিডিল, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সহ নানা ধরনের ওষুধ

মামলায় বিবরণীতে মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেটর সরবরাহ করে। ওই প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ টাকার (বিল) প্রকল্পের বিপরীতে সিকিউরিটি বাবদ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জামানত রাখা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওই সিকিউরিটির টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিস্কৃত ছাত্র আজিজুল ইসলামকে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন ড. ইকবাল কবীর জাহিদ। টাকা দিতে না চাইলে তারা প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের উপর ক্ষুব্ধ হন। এবং তাকে মারধর করে ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন।
আরও সংবাদ > >মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ কামালের ৭৩তম জন্মদিন পালিত

ওই মামলা দায়েরের পর গোটা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ ও ছাত্র, এবং বিবেক সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। তাদের দাবি প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ায় এই মামলায় ‘অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে’।

এদিকে প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের দায়ের করা মামলায় অধ্যাপক ড.ইকবাল কবির জাহিদের সম্মান ক্ষুন্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে আজ রোববার (০৭ আগস্ট) যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে আসামী করে একটি মানহানীর মামলা দায়ের করেছেন। যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সদর আমলের বিচারক মনজুরুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআইকে) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ড. ইকবাল কবির জাহিদ মামলার বিবরণীতে অভিযোগ করেছেন, প্রকৌশলী মিজানুর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা মিথ্যা ভিত্তিহীন কুরুচিপূর্ণ, ঘৃনা, বিষদ মানহানীকর বক্তব্যে এবং দায়ের করা মিথ্যা মামলায় শিক্ষক সমাজে ড. ইকবাল কবীর জাহিদের সুনাম সম্মান ও মানহানী ঘটেছে।

যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী কামরান হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডা.ইকবাল কবির জাহিদের বিরুদ্ধে মিজানুর রহমানের দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দূর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া মিজানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে এ মামলা করেছিলেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মিজানুর রহমানে বানোয়াট ঘটনায় ড. ইকবাল কবির জাহিদের শিক্ষক সমাজে চরমভাবে সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। ফলে তিনি রোববার মিজানুর রহমানকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে এ মানহানীর মামলা করেছেন। বিজ্ঞ আদালত পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, মারপিটের কোনো ঘটনার সাথেই আমার নূন্যতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তদন্ত করে অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়ায় আমাকে ওই ঘটনার সাথে জড়ানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিকার না হলে তো আর কেউ অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস পাবে না। এ ঘটনায় আমার চরম মান-সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। এজন্য আমি আমার মানহানীর বিচার চেয়ে আদালতের স্বরনাপন্ন হয়েছি।