ওবাইদুল ইসলাম অভি,যশোর অফিস: শিল্পী খাতুন যশোর সদর উপজেলার চাদপাড়া গ্রামের মৃত আখি বিশ্বাসের মেয়ে।
হাঁস-মুরগি পালন করতে করতে অভাবের তাড়নায় নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেন মৎস খামার করার। শুরুর থেকে সপ্ন বুনতে থাকেন একজন সফল নারী উদ্যেক্তা হবার। তার সপ্ন আজ বাস্তবে রুপ নিয়েছে। শুধু শিল্পী খাতুন সাবলম্বি হননি, তিনি গ্রামের আরও দশটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন।
দশ বছর আগে  ১০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে মৎস হ্যাচারী থেকে রুই মাছ ও মনোসেক্স মাছের পোনা সংগ্রহ করে  মাছ পালন শুরু করেন যশোরের শিল্পী খাতুন (৩৫)। বর্তমানে তিনি একজন সফল নারী উদ্দ্যেক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বর্তমানে শিল্পী খাতুন তার বাসা বাড়িতে রঙিন মাছের হ্যাচারী গড়ে তুলেছেন। তিনি এ রঙিন মাছ সাতক্ষীরা জেলার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।
এবং বাড়ির পাশেই নদীর কিনার ঘেষে তৈরি করেছেন খাঁচায় সাদা মাছ চাষের হ্যাচারী। সব মিলিয়ে তার দুটি হ্যাচারীতে মাছের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশী। শুধু মাছের হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করে শিল্পী খাতুন থেমে যাননি। তিনি মাছের খাবার নিজস্ব কারখানা থেকেই উৎপাদন করেন।
মাছের খাবার উৎপাদনে তিনি যশোরের বিভিন্ন বাজার থেকে কাঁচামাল হিসেবে ভুট্টা, শুটকি মাছ, আটা, গমের ভুষি, পালিসের গুড়া ইত্যাদি সংগ্রহ করে থাকেন। তার নিজস্ব কারখানায় প্রতিদিন প্রায় এক টন মাছের খাবার উৎপাদিত হয়। যা তার মৎস খামারেই ব্যবহার করা হয়। শিল্পী খাতুন  জানান, এ মৎস খামার থেকে বর্তমানে তার মাসিক উপার্জন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
এর আগে ২০১৮ সালে তৎকালীন জেলা মৎস কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের কাছ থেকে সফল নারী উদ্দ্যেক্তা হিসেবে  পুরস্কার গ্রহন করেন। এ ছাড়াও পেয়েছেন নানা সম্মাননা, সংবর্ধনা পদক ও সনদ। শিল্পী খাতুন জানান, তিনি খুব দুরাবস্থার মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করছিলেন।
২০১২ সালে হাঁস-মুরগি পালন করতে করতে হঠাৎ ভাগ্যের পরিবর্তন করতে  মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর যশোরের চাচড়া মৎস হ্যাচারী থেকে পোনা মাছ সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর বাড়িতে চৌবাচ্চা করে সেখানে মাছের পোনা চাষ শুরু করেন।
শিল্পী খাতুন তার খামারের নাম দেন ‘শিল্পী মৎস খামার’। ধীরে ধীরে শিল্পী মৎস খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। সেই সাথে শিল্পী খাতুনের মনে সপ্ন বাস্তবে পরিণত করার আকাঙ্খা বৃদ্ধি পেতে থাকে। শিল্পী মৎস খামারের কর্মচারী শুকুরেন্নাছা বলেন,’ আমার সংসারে অভাব অনাটন ছিলো।
এখানে গত কয়েকবছর কাজ করে এখন আমি সাবলম্বি। এমন উদ্দ্যেগ প্রতিটি গ্রামের মানুষ নিয়ে থাকলে দেশের বেকারত্ব সমস্যা ঘুচবে।
কর্মচারী হিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমরা দশজন এখানে দিন চুক্তিতে কাজ করি। এখানে কাজ করায় আমাদের দূরে জীবিকা নির্বাহের জন্য যেতে হয় না। আমরা পরিবর পরিজন নিয়ে সুখে আছি।
জানতে চাইলে যশোর সদর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা বলেন, শিল্পী খাতুন তিনি একজন সফল নারী উদ্যেক্তা।  শিল্পী মৎস খামারিকে  উপজেলা মৎস অফিস থেকে সহোযোগিতা করা হয়ে থেকে। এ কর্মকর্তা আরও বলেন , ‘শিল্পী খাতুনকে   ২১ সালেও একটি নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। উপজেলা মৎস অফিস উদ্যেক্তাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।